জুয়া খেলা প্রতিরোধে সংসদে নতুন বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কারাদণ্ড

অয়ন আহমেদ

২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম


জুয়া খেলা প্রতিরোধে সংসদে নতুন বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কারাদণ্ড

 

দেশে জুয়া ও অনলাইন বাজি কঠোরভাবে দমনে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলে ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনের মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর তা আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করে যুগোপযোগী এই নতুন আইনটি আনা হচ্ছে। নতুন এই খসড়া আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সাথে অপরাধের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এতে।

প্রস্তাবিত বিলের ধারা অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে বর্তমান সময়ের বড় উদ্বেগ অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার (রিমোট গ্যাম্বলিং) ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অনেক বেশি রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া কেউ যদি ভিপিএন, মিরর সাইট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অনলাইন বেটিং বা বাজিতে জড়িত হন, তবে তার সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

খেলাধুলার চিরচেনা শত্রু ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং রুখতেও এই বিলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধের প্রমাণিত সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। বিলটি পাস হলে দেশে সব ধরনের জুয়া ও ডিজিটাল বাজি নিয়ন্ত্রণে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Ads