মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা কাটছে, সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
১৭ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জটিলতা দ্রুততম সময়ে নিরসনের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করায় খুব শিগগিরই এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে বেতন দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা করতে পারছেন না।’ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে।
"বিগত সরকারের সময় এমইএমআইএস প্রকল্প থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রম বাদ দেওয়ার কারণেই মূলত মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত পরিশোধের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু ইএফটি সুবিধা না থাকায় এতদিন দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ইএফটি-এর মাধ্যমে বেতন দেওয়া হতো।
এই নির্দিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের অন্য সব মাদ্রাসায় বর্তমানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন পদ্ধতির কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে।
বর্তমান সরকার এই সমস্যা নিরসনে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন একনেক সভায় ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই সংশোধিত প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ইএফটি কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষকরা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দ্রুততম সময়ে বেতন পেয়ে যাবেন। এর মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।



















