জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

অয়ন আহমেদ

৩১ মে ২০২৬, ০১:২৭ এএম


জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা


৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, "এর মধ্যে যেকোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফল বলা যায়। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যাঁর জীবনে গৌরবের এসব মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান। আমার জানামতে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই, একজন নেতা নিজ দেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে এভাবে পরিণত হয়েছেন সমগ্র জাতির সত্তা ও অস্তিত্বের অংশে; তথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে।"

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মাহদী আমিনের (যিনি শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন) ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক হুবহু তুলে ধরা হলো:

জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক
১. স্বাধীনতার ঘোষক: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যাঁর আহ্বানে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ।
২. বীর উত্তম খেতাব: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং অসামান্য বীরত্বের জন্য 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত।
৩. সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান: সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং ইতিহাসের সফলতম সেনাপ্রধান।
৪. নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি: দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
৫. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সুমহান আদর্শের প্রবক্তা, যা নিশ্চিত করে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষ এবং সমতল ও পাহাড়ের প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার ও স্বাধীনতা।
৬. বহুদলীয় গণতন্ত্র: বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের অধিকার স্থাপক।
৭. ইসলামী মূল্যবোধ: গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধানের সংশোধন ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক।
৮. মুক্তবাজার অর্থনীতি: মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রবর্তক।
৯. গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ: রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশজুড়ে ইপিজেড ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনাকারী।
১০. জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিটেন্স: মধ্যপ্রাচ্যে ও অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রবাসীদের রেমিটেন্স আজও দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি।
১১. কৃষি ও তৃণমূলের উন্নয়ন: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি নির্মাণ এবং তৃণমূলের উন্নয়নের রূপকার।
১২. স্থানীয় সরকারব্যবস্থা: গ্রাম সরকার ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা উদ্যোগের প্রবর্তক।
১৩. খাল খনন কর্মসূচি: ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনক।
১৪. গণশিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা: গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তক এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার কারিগর।
১৫. নতুন মন্ত্রণালয় গঠন: নারী ও যুবকদের জন্য দুইটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
১৬. শিশু একাডেমি: শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও 'নতুন কুঁড়ি'র প্রবক্তা।
১৭. সার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য 'সার্ক' (SAARC)-এর প্রতিষ্ঠাতা।
১৮. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কারিগর।
১৯. ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি: পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের রূপকার, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী এবং ফিলিস্তিনি জাতি নির্মাণে আল-কুদস কমিটির সদস্য।
২০. সার্বভৌমত্ব রক্ষা: নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও পানির হিস্যা বুঝে নেওয়াসহ বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণকারী।

নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা
ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন লেখেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সাফল্যের গৌরব নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কালজয়ী ইতিহাস। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম, পরিকল্পনা, চিন্তা ও নেতৃত্ব আজও কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে এবং তাঁর হাত ধরেই বদলে গেছে পুরো দেশ ও জাতির কাঠামো।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঠিক সেই আদর্শ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই আজ বহন করছেন জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেমনটি ইতিপূর্বে করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

Ads