৬ ব্যাংকের জনবল নিয়োগ-ছাঁটাই নিয়ে তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
০৪ মে ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংকে নজিরবিহীন জনবল নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ রয়েছে- যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র ‘বক্সভিত্তিক’ জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় একটি অংশের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং খাতের পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা ফেরাতে এই অনিয়মের উৎস ও প্রভাব অনুসন্ধানে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করে। তবে নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া বিধিসম্মত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা যাচাই করছে নিয়োগের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল কি না, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং প্রার্থীদের শিক্ষাগত সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
তদন্তাধীন ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি অংশ গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় জড়ো হয়ে ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই দিন পাল্টা কর্মসূচি পালন করে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামের আরেক পক্ষ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত দল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এ প্রতিবেদন আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার জন নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৩৪০ জনকে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৮৫ জনের জন্য বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে নেওয়া ওই পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪১৪ জন। বাকি যারা অংশ নেননি, তাদের প্রথমে ওএসডি করা হয় এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিটও হয়েছে। আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নিয়োগ ও চাকরি বহাল বা বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।



















