নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
০২ মে ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, জনগণের রায় নিয়ে গঠিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে আমরা নিরলস কাজ করে যাবো।
শনিবার (২ মে, ২০২৬) রাজধানীর বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের বিশুদ্ধানন্দ-শুদ্ধানন্দ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা, জাতিসংঘ ‘বেশাখ ডে-২০২৬’ এবং ‘বৌদ্ধ ধর্ম ও বিশ্ব শান্তি’ শীর্ষক এই শিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে বিশ্ব বৌদ্ধ সৌ-ভ্রাতৃত্ব সংঘের বাংলাদেশ আঞ্চলিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ জাহিদ হোসেন মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান অশান্ত ও অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হলো অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণা। সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হলো বুদ্ধের মূল মন্ত্র। যদি আমরা অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের বাণী সঠিকভাবে অনুসরণ করি, তবে পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, সংঘাত ও অশান্তি দূর করা সম্ভব।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের অনুসারীরা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তির সাথে জীবন অতিবাহিত করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আমাদের সরকার সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে সবসময় পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
অধ্যাপক ডাঃ জাহিদ হোসেন- বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “গৌতম বুদ্ধের আদর্শ কেবল নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির মুক্তির পথ। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে। বর্তমান সংকটাপন্ন বিশ্বে বুদ্ধের কালজয়ী বাণী ‘সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতা’ অর্থাৎ ‘সকল প্রাণী সুখী হোক’- এই দর্শন অনুসরণ করে আমরা একটি আধুনিক ও শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।”সিম্পোজিয়ামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বৌদ্ধ দর্শনের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বশান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের উদ্যোগে এক বিশেষ শিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠানে সংঘের সভাপতি শ্রী সদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ কেভিন স্টুয়ার্ট র্যান্ডাল (Archbishop Kevin Stuart Randall), মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মি. ইউ কজাও সো মো (Mr. U Kyaw Soe Moe), চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক সচিব মি. লি শাওপেং (Mr. Li Shaopeng) এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার মি. বার্নার।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ, নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশিষ্ট বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচকগণ বুদ্ধ পূর্ণিমার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বলেন, বর্তমান সংঘাতময় বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গৌতম বুদ্ধের শান্তি ও অহিংসার বাণী অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বুদ্ধের মহান শিক্ষা ও দর্শন অনুসরণ করলে সমাজ থেকে বৈষম্য, হিংসা ও সন্ত্রাস নির্মূল করে একটি মানবিক ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।
শিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



















