জামায়াত নেতা সহ গ্রেফতার ১৩
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৫:৩৪ এএম
ছবি-সংগ্রহিত
গতকাল সোমবার পল্লবীর একটি বাসা থেকে ২০টি হাতবোমাসহ জামায়াত নেতা সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান ও মিয়া গোলাম সরওয়ারসহ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গার্মেন্ট শিল্পে অরাজকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াত নেতা সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান ও মিয়া গোলাম সরওয়ার সহ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের থেকে লাঠি, গ্যাসপাইপ ও চাঁদা আদায়ের রসিদ উদ্ধার করা হয়। ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল আজহার আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ না করার গুজব ছড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের খেপিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল জামায়াত নেতাদের। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে গার্মেন্ট কারখানাগুলোয় নাশকতা চালানোর ছক তৈরী বরেছিলেন। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, কাফরুল থানা জামায়াতের আমির তসলিম লস্কর, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কালাম আজাদ, মনসুর রহমান, জাকির হোসাইন, আশরাফুল আলম ইকবাল, এ বি এম নুরুল্লাহ ওরফে মোহাম্মদ উল্লাহ, আবুল হাসেম, মোহাম্মদ সাব্বির ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া।
গ্রেফতারকৃত মুজিবুর রহমান রাজশাহী-২ আসনের সাবেক এমপি ও জামায়াতের নায়েবে আমির এবং মিয়া গোলাম সরওয়ার খুলনা-৫ আসনের সাবেক এমপি ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নাশকতাসহ নানা অভিযোগের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৫টি, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ১২টি ও তসলিম লস্করের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর মিরপুর থেকে মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর চারবার তাকে কারাফটক থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালের আগষ্টে তিনি জামিনে মুক্ত পান। এর পরেও এ ব্যক্তিরা নাশকতা কর্মকান্ড চালিয়ে যচ্ছে।
ডিবির উপকমিশনার (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পল্লবীর ১০ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর লাইনের ৪ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় থাকেন জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদ। তার বাসায় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি গোপন বৈঠক চলছিল। নাশকতার পরিকল্পনা করতে তারা সেখানে বৈঠক করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় সেখানে অভিযান চালায়। ওই বাসা থেকে ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং বোমা, লাঠি ও চাঁদা আদায়ের রসিদ উদ্ধার করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, গ্যাসপাইপ ও লাঠিগুলো চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রেরক ও প্রাপকের শুধু মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া ছিল।
কে এগুলো পাঠিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে পৃথক মামলা হচ্ছে।
ডিবির সহকারী কমিশনার সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির প্রতিদিনের চিত্র প্রতিবেদককে জানায় যে, বোমাগুলো ঘটনাস্থলেই সম্পন্ন নিষ্ক্রিয় করা হয়। বেশ শক্তিশালী ছিল এই বোমা গুলি। এধরনের বিস্ফোরণে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।
বিকেল প্রায় ৪টার সময় অভিযান শেষ করে গ্রেফতারকৃতদের মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির
করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
ডিবি পুলিশের অভিযানে পল্লবী থানা পুলিশ সহায়তা করে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা এর আগেও ওই বাসায় একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
এদিকে, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ এক বিবৃতিতে বলেন, মুজিবুর রহমান শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক করছিলেন। গণতান্ত্রিক দেশে ঘরোয়া বৈঠক থেকে জামায়াত নেতাদের এভাবে
গ্রেফতার করা আইনের দৃষ্টিতে চরম অন্যায় এবং ২০টি বোমা উদ্ধারের নাটক সাজানো বলে জানিয়েছেন। নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াত।


































