পুলিশ যোগসূত্র খুজঁছে দুই খুনের
০৪ অক্টোবর ২০১৫, ০৬:২৮ পিএম
ছবি-সংগ্রহিত
গতকাল শনিবার সকালে জাপানি নাগরিককে অতর্কিত ভাবে খুন এবং গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির নাগরিককে হত্যা করা হয়। এই দু’টি ঘটনা একই যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেখা যায় এই দু’টি খুন হওয়ার মাঝে খুনের ধরন মিল পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন মহল দু’টি খুন নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।
ঢাকায় ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা এখনও কোন হদিস বের করতে পারেনি। এ ঘটনার সঠিক কোন সূত্র না পেতেই গতকাল জাপানি নাগরিক কুনিওহোশি খুন হয়েছেন। এই দু’টি খুন একই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা করেন তদন্ত কারী দল। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে পাশাপাশি বিদেশী কোন সন্ত্রাসী মহল জড়িত থাকতে পারে বলে জানান। সরকারের উচ্চ মহল এই দুই খুনের ঘটনায় বেকায়দায় রয়েছে তাই যত দ্রুত সম্ভব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের খুনের সূত্র খুঁজে বের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে দুই বিদেশি হত্যায় গোয়েন্দা সংস্থরা একটি সূত্র গোপন জঙ্গিগোষ্ঠীর কাজ হতে পারে বলে ধারণা করেছেন। রংপুরে হত্যার ঘটনায় সরকারের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। তাই বিদেশিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব জেলার পুলিশ সুপারকে সতর্ক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্র আজ থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন। সাথে মোটরসাইকেল আরোহীদের তল্লাশিসহ সারা দেশে জামিনে থাকা পেশাদার অপরাধী এবং গাড়ি ভাংচুর, নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিবিসিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন কিছু দিনের মধ্যে দু’টি খুনের রহস্য উদঘাটন করবেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি ধারণা করেন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এবং বর্হিবিশ্বে দেশের পরিস্থিতি নাজুক বলে উপস্থাপনের জন্য দেশের ভিতরের এবং বাহিরের কুচক্রী মহল এ চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, দুটি খুনের ক্ষেত্র একি ধরণের পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে পেছন থেকে এবং অস্ত্রের গুলিও ছিল একি রকম। ভিন্ন ভিন্ন খুনের ঘটনায় আক্রমণকারীরা ছিল তিনজন এবং তারা একইভাবে মোটরবাইকে করে পালিয়ে যায়। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় পরিকল্পিত কোন গোষ্ঠি এই কাজ করাছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি আরো বলেন কিছু আলামত পাওয়া গেছে শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে ইতালীয় নাগরিক সিজারের হত্যা মামলা তদন্তে ডিবির গঠিত ১১ সদস্যের কমিটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি দুই খুনের যোগসূত্র রয়েছে কি না। তদন্তের সাথে সংশিষ্ট ডিবির ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


































