ঊর্ধ্বমুখী বর্তমান পুঁজিবাজারের লেনদেন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৯ জুলাই ২০১৫, ০৬:১৩ এএম


ঊর্ধ্বমুখী বর্তমান পুঁজিবাজারের লেনদেন

ছবি-সংগ্রহিত


দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে সপ্তাহের শুরু থেকে আরম্ভ করে চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার পর্যন্ত । দেখা যাচ্ছে বাজার মূল্যের সূচকও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া ৩১৮টি কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও কর্পোরেট বন্ডের মধ্যে ৫১.২৬ শতাংশের দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৭.১১ শতাংশের। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২৫১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫১ শতাংশের ও কমেছে ৩০.৬৮ শতাংশের। বাকি শেয়ার ও ফান্ডের বাজারদর অপরিবর্তিত থেকেছে। দিনের লেনদেনের শুরু থেকে শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে লেনদেন সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও কিছুটা বাড়ে।
দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩২৬টি কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে বুধবার ৩১৮টির কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ১১৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর।
আর সিএসইতে ১২৮টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৭৭টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির দর।
বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইর ডিএসই-এক্স সূচক ১৪.৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪৫৭৯.৭৩ পয়েন্টে এবং সিএসইর সিএসসিএক্স সূচক ৫০.১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫৯৭.৫০ পয়েন্টে উঠেছে।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ মিলিয়ে ৫৩৫.৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা গতকালের তুলনায় ১০.৫৬ কোটি টাকা বা ২.৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ডিএসইতে ৪৯৪.৫২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসই লেনদেনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবার ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বস্ত্র, তথ্য ও প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, টেলিযোগাযোগ এবং বিবিধ খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে সিমেন্ট ও পাট খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাকি খাতগুলোতে মিশ্রাবস্থা ছিল। ডিএসইতে এদিন দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আরামিট সিমেন্ট (২৮.৬০ টাকা/১০%), ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড (৭.২০ টাকা/৯.০৯%), মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ (৬.১০ টাকা/৮.৯২%), সাভার রিফ্যাক্টরিজ (৫০.৮০ টাকা/৮.৭৭%) ও আইসিবি এমপ্লয়ি প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড (৫.৫০ টাকা/৭.৮৪%)। বিপরীতে সর্বাধিক ৯.৩৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক্স কোম্পানির শেয়ারের। এর সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ৪৯.৪০ টাকা। দরপতনে এরপরের অবস্থানে ছিল অলিম্পিক এক্সেসরিজ (৬২.৯০ টাকা/-৫.১২%), এল আর গ্লোবাল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড (৩.৯০ টাকা/-৪.৮৭%), এসিআই ফর্মুলেশনস (২৩১ টাকা/-৪.৮২%), এপেক্স ফুডস (১০২ টাকা/-৪.৪৯%)। আজ সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে ডিএসইতে ৫ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে ১৩টি কোম্পানির শেয়ার ও দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের। বিপরীতে ৫ শতাংশের ওপর দরপতন হয়েছে ২টির। খাতওয়ারি লেনদেনে এরপরের অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাতের ৩১ কোম্পানির ৯০.৪৯ কোটি টাকা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৮ কোম্পানির ৫৬.০৬ কোটি টাকা, বিবিধ খাতের ১১ কোম্পানির ৪১.৫৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন।
আজ একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল গ্রামীণফোনের শেয়ার। এ কোম্পানিটির ২০.৮৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ৩৩৩.৫০ টাকা। শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে এই ব্যবসার সাথে সংশিষ্ট সকলে উপকৃত হবে।
 

 

Ads