দুর্যোগে আগাম প্রস্তুতি ছিল সরকারের, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা সরকার অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ দ্রুত পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

গত ১৯ জুলাই, রবিবার দুপুরে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ আয়োজনে মহালছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। রবিবার থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে হতদরিদ্র ও বানভাসি মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো মানুষ যেন খাদ্যাভাবে না ভোগে, সে জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক অগ্রগতির বিষয়ে বর্তমান সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গম এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সমন্বিত করতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দ্রুতই দৃশ্যমান হবে।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী মহালছড়ি উপজেলার চোংড়াছড়ি, পাকুজ্জাছড়ি ও মাইসছড়ি এলাকার বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
উক্ত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে, ত্রাণ বিতরণ শেষে বিকেলে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের রোডম্যাপ, চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা এবং জেলার চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি দ্রুত নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।




































