ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আগামীর জ্বালানি সমাধান: স্থানীয় সরকারের কার্যকর ভূমিকা দরকার


ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আগামীর জ্বালানি সমাধান: স্থানীয় সরকারের কার্যকর ভূমিকা দরকার

পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান


রুফটপ সোলার বিস্তারে স্থানীয় সরকারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিপ্লব আনতে এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সৌরশক্তির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিতে ফেড-খাগড়াছড়ির আয়োজনে  রবিবার(২২ ফেব্রুয়ারি) এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সহযোগিতা করে, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, ক্লিন এবং বিডাব্লিউজিইডি।

'১০ লাখ রুফটপ সোলার, ১০ লাখ কর্মসংস্থান' প্রতিপাদ্যে এ মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন, সাংবাদিক নুরছাপা মানিক।

হেডম্যান ইখিন চৌধুরী স্থানীয় সরকারের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে যদি জ্বালানি উৎপাদন করতে হয়, তাহলে সৌর বিদ্যুতের পথে যেতেই হবে। বিশেষভাবে তিনি পাহাড়ের আদিবাসী নারীদের কথা উল্লেখ করেন, যারা দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এখনো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দয়ানন্দ ত্রিপুরা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। অথচ বাংলাদেশ এখনো মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জন করতে পারেনি। এই পিছিয়ে পড়ার দায় নিতে হবে এবং সরকারকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খাগড়াছড়ির কো-অর্ডিনেটর নুর আলাল বলেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে আরও বেশি প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা প্রদানের দাবি জানান।

প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি জহুর আলম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি সমাধানে রুফটপ সোলার একটি কার্যকর ও টেকসই পথ। সঠিক নীতিমালা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই খাত থেকে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

আনন্দের প্রতিনিধি শ্যামল রোজারিও বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করতে হলে সৌর বিদ্যুতের বিকল্প নেই। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন একদিকে পরিবেশ ধ্বংস করছে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভরতার কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো এখন শুধু সুযোগ নয়, এটি এক অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা।

সভাপতির বক্তব্যে আলো-র নির্বাহী পরিচালক অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সবচেয়ে বড় অফুরন্ত সম্পদ হলো সূর্যের আলো। এই বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদকে যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের পরিচয় দেওয়ার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। তিনি সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করবে, তেমনি লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি রুফটপ সোলার স্থাপনে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ সুবিধা প্রদান, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রান্তিক ও পার্বত্য অঞ্চলে সোলার বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং এই খাতে তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

 

Ads