হরিরামপুরে প্রথমবারের মতো চিয়া সীডের চাষ
০৬ মার্চ ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে প্রথমবারের মতো সৌখিনতার বশবর্তীতে পরীক্ষামূলক এক ধরণের ভেষজ জাতীয় খাদ্য শস্য চিয়া সীডের চাষ করা হয়েছে জানা গেছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ঘুণী গালা গ্রামের ডাঃ ইমরান খান ও ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের ডাঃ মো. ইউনুস আলী শখের বশে এই চিয়া সীডের চাষ করেন।
এরা পেশায় দুজনই পল্লী চিকিৎসক। এছাড়াও গোয়ালবাগ ও আজিমনগর এলাকার দুই কৃষক এই চিয়া সীডের চাষ করেছেন বলেও জানা যায়। গোয়ালবাগ এলাকায় চিয়া সীড ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, চিয়া সীডের গাছগুলো অনেকটা তিল গাছের মতো। ফলগুলোও তিলের আকৃতিতে বাতাসে দুলছে। ফলের ভাড়ে ও বাতাসে অনেক গাছ জমিতে ন্যূয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় তিন বিঘা জমিতে নিজস্ব উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে চার ব্যক্তি এই চিয়া সীডের চাষ করেছেন।
চিয়া সীড দেখতে অনেকটা তিলের মতো। এটি সাদা, কালো ও বাদামি রঙের হয়ে থাকে। খাওয়ার আগে পানিতে ভেজানোর পর এর আয়তন ১০ থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। রোপণের তিন মাসের মধ্যে যখন ফুলগুলো বাদামি আকার ধারণ করে, তখন ফুল হতে চিয়া সীড সংগ্রহ করা হয়।
ঘুণী গালা গ্রামের ডাঃ ইমরান খান বলেন, আমি ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিওতে এই চিয়া সীডের গুণাবলী দেখেছি। এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। বিশেষ করে ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে। আমি নিয়মিত বাজার থেকে কিনে চিয়া সীড ভিজিয়ে সরবত তৈরি করে পান করি। তাই ভাবলাম পরীক্ষামূলকভাবে এটি চাষ করলে কেমন হয়? পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিটিউট মানিকগঞ্জ থেকে বারি চিয়া-১ জাতের বীজ সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে চাষ করি। এতে আমার প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ফলন ভাল হলে আমার ব্যক্তিগত চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবানও হতে পারব। তবে ফলন ভাল হলে আগামীতে আমি ৫/৬ বিঘা জমিতে চিয়া সীড চাষ করব, ইনশাল্লাহ।
ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের ডাঃ মো. ইউনুস আলী দেওয়ান বলেন, আমি সবসময় বিভিন্ন ভেষজ জাতীয় দানা দিয়ে সরবত পান করি। এরমধ্যে চিয়া সীডের বিষয়টি ইউটিউবে দেখে চাষের আগ্রহ জাগলো। পরে বীজ সংগ্রহ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আমি ১৭ শতাংশ জমিতে চিয়া সীডের চাষ করি। গাছগুলো দেখতে ভালই হয়েছে। আশা করি ফলন ভাল হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, এ উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে চারজন চিয়া সীড চাষ করেছে শুনেছি। যদি ফলন ভাল হয় তাহলে আগামীতে আমরা ব্যাপক আকারে চিয়াসীড চাষে কৃষককে সর্বাত্মক সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করব।




































