গোপালগঞ্জে পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
গোপালগঞ্জের পুরাতন মানিকদাহ গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে চাষিরা। হলুদ রংয়ের সূর্যমুখী ফুলে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। দেখে মন জুড়িয়ে যাওয়া হলদে রংয়ের ফুলের এলাকা হিসেবে পরিচিত পেয়েছে ওইসব এলাকা। পর্যটকদের ডাকছে হাতছানি দিয়ে। বিস্তীর্ণ এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের দৃশ্য যেন সহজেই মানুষকে কাছে টানছে। সূর্যমুখী গাছের ডগায় বড় বড় আকারের ফুলে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। বিকেলের দিকে সূর্য পশ্চিম আকাশে গেলেই পর্যটকদের ভীড় যেন চোখে পড়ারমতো। সূর্যমুখী ফুলের হাসিতে দূর থেকে মনে হয় যেন সূর্যের মেলা বসেছে। সূর্যমুখীর অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন ওইসব এলাকায় ভীড় করছেন পর্যটকরা। কৃষকের ভালোবাসার হলুদ রংয়ের সূর্যমুখী ফুলের মন জুড়ানো ঘ্রান আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ওইসব এলাকা।
চাষিরা বলছেন, সূর্যমুখী চাষ করার পদ্ধতি খুবই সহজ। প্রতি বিঘা জমিতে আড়াই থেকে ৩ কেজি বীজ আর অল্প কিছু সার ও কীটনাশক হলেই যথেষ্ট। সবমিলে এতে খরচ হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, মূলত তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের প্রণোদনাসহ উৎসাহ দিচ্ছে। মানিকদাহ গ্রাম ছাড়াও গোটা গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে তেলবীজ হিসেবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ দিনদিন বাড়ছে। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহের যেন শেষ নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষ হতে পারে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল। সূর্যমুখী বাগান দেখতে আসা পর্যটকরা বলেছেন, সূর্যমুখীর ফুল দেখতে খুব চমৎকার লাগছে। তবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটু জোরদার করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।
জমির মালিকরা বলেন, পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। ফলনও ভাল পেয়েছি। তবে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সূর্যমুখী চাষ আরোও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ পেয়েছি। কৃষি অফিস জানিয়েছেন, চাষকৃত সূর্যমুখীর মধ্যে হাইসান-৩৩, আরডিএস ২৭৫ জাতের আবাদ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ভোজ্য তেল হিসেবে গুণগত মানের দিক থেকে বেশ ভালো। বাজারে সূর্যমুখীর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এবং উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী হওয়ায় এ বছর ভালো ফলনের মাধ্যমে চাষীদের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করছেন তারা।




































