বিআইডব্লিউটিসি’র ইলেকট্রিশিয়ান কোটিপতির প্রতারণার অভিযোগ
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১০ পিএম
বিআইডব্লিউটিসি’র নিম্নপদস্থ কর্মচারী শীতল বিশ্বাস নামের এক কোটিপতি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী অবৈধ্যভাবে অর্থ উপার্জন এবং পেশীশক্তি ব্যবহার করে জমির বায়না নামার টাকা না দিয়ে জমি দখল এবং সে জমি পল্ট বানিয়ে বিক্রিসহ প্রতারণা থেকে প্রতিকার পেতে দূর্নীতিদমন কমিশন (দুদক)-এ একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।
গত ২২ ফেব্রুয়ারী দূর্নীতিদমন কমিশন (দুদক)-এ গৃহীত এক অভিযোগ পত্রে এই তথ্য জানা গেছে। ইলেকট্রিশিয়ান থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আলোচিত এই ব্যক্তিটির পুরো নাম শীতল বিশ্বাস। তিনি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসি’র নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।
অভিয়োগ পত্রে জানা যায়, টাংগাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার বাসিন্দা শীতল বিশ্বাস এখন মানিকগঞ্জের উথলীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে পাটুলিয়া ঘাটে কর্মরত থাকার সুবাদে ফেরি ও জাহাজের তেলচুরিসহ নানা অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। তার অনিয়ম এবং নীতিবিরোধী কাজে সংযুক্ত থাকায় ইতিপূর্বে একাধিকবার তাকে নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হলেও তার এক প্রভাবশালী মামার তৎপরতায় সে আবার একই স্থানে বদলি হয়ে আসে।
অভিযোগে আরো জানাগেছে, এমনকি শীতল বিশ্বাস দিনের বেলায় কখনো অফিস করেন না। এমনকি তার সব কর্মকান্ড নাকি চলে রাতের বেলা। প্রভাবশালী এক মামার কারণে নাকি তার বিরূদ্ধে কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন না।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে প্রায় মাস চার আগে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গুরুতর মারামারিতে অংশ নিয়ে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। এসময় বেশ কিছুদিন তাকে জেল খাটতে হয়। একারণে বিআইডব্লিউটিসিও তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে।
কিন্তু, কিছুদিনের মধ্যে প্রভাবশালী মামার তৎপরতায় জামিন পেয়ে পুনরায় পাটুরিয়া অফিসে একিভূত করে কাজে যোগদান করেন। জামিন পেলেও বিআইডব্লিউটিসির নির্দেশনা ছিল পাটুরিয়া অফিসে একিভূত করা হলেও মাসে অন্তত দুইদিন তাকে হেড অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়। সেই সুযোগে মাসে দুইদিন হেড অফিসে হাজিরা দিলেও পাটুরিয়া অফিসে মোটেও যেতেন না বলে অভিযোগে লেখেন।
অভিযোগে আরও লেখা হয়, অবৈধ নানা কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থেকে শীতল বিশ্বাস প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছেন। সে এখন রীতিমত একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি মৌজা, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি মৌজা, উথলী এবং পাটুরিয়া ঘাটের আশেপাশে রয়েছে তার বেশ কয়েকটি রিয়াল স্টেট প্লট। আরিচা ঘাট এবং পাটুরিয়ায় ফেরীঘাটে থাকার কারণে এই এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সে কম দামে জমি কিনে সামান্য ভরাট করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। এখানেও সে গড়ে তুলেছে প্রতারণার বাণিজ্য। বহু লোকের কাছ থেকে সে বাকিতে জমির পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে চারগুন দামে বিক্রি করেও জমিওয়ালার টাকা পরিশোধ করছেন না। টাকা চাইলে অনেককে মামলায় জড়ানো এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।
একটি সরকারি অফিসের অত্যন্ত নিম্নপদস্থ কর্মচারি নানাবিধ প্রতারনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ায় সে এখন ধরাকে সড়া জ্ঞান করছেন।
আবেদনে আরো উল্লেখ রয়েছে, প্রতি রাতে শীতল বিশ্বাস অরিচা ঘাট, পাটুরিয়া ঘাট অথবা উথলীতে মদ, জুয়া ও নাচ গানের আসর বসায়। ফেরিঘাট কেন্দ্রিক জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী বিক্রি ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকেন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে শীতল বিশ্বাসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।



































