গোপালগঞ্জের পাইককান্দিতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার জমি দুই যুগ পর উদ্ধার

নাবিলা খাঁন

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১০ পিএম


গোপালগঞ্জের পাইককান্দিতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার জমি দুই যুগ পর উদ্ধার

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন ”দুদকে” নালিশের ৩ দিন পর  পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি  রফিকুল ইসলাম শিমুলের গোপালগঞ্জের পৈত্রিক বাড়ির সীমানার পিলার ভেঙ্গে সরকারের কয়েক কোটি টাকা মুল্যের ১ একর ৭ শতাংশ খাস জমি দখলমুক্ত করে তাঁর কাটার বেড়া দিয়ে ঘিরে সাইনবোর্ড  টাঙ্গিয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

 

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলমের  নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের শক্তিশালী একটি দল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ জায়গা দখলমুক্ত করেন।

 

সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের বিজয়পাশা মৌজার পাইককান্দি পশ্চিমপাড়া ৫৬৯ দাগে ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারের  কয়েক কোটি টাকা মুল্যের ১ একর ৭ শতাংশ খাস জমি দখল জমির ওপর পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের পৈত্রিক বাড়ির লোকজন অবৈধভাবে  সীমানা প্রাচির নির্মান করে প্রায় দুই যুগ ধরে জোরপুবক ভোগ করছিলেন।

 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জে দুদকের গণশুনানি চলাকালে অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের পরিবারের অবৈধ দখলে থাকা ১একর ৭ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ করেন সদর উপজেলার মোছড়া গ্রামের আজম আলী খান নামে এক ব্যক্তি। তার নালিশের ভিত্তিতে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মোঃ জহুরুল হক বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

 

নির্দেশনা মোতাবেক  শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলমের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের শক্তিশালী একটি দল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ জায়গা দখলমুক্ত করেন।

 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন আরো জানান,  গোপালগঞ্জ জেলার যে সকল এলাকায় সরকারি খাস জমি রয়েছে, সেসব খাস জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি একটি চলমান নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খাস জমি অবৈধ দখল মুক্ত ও উদ্ধার করতে অভিযান চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে জেলা শহর ও অন্যান্য উপজেলাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ নাজমুন নাহার বলেন, গোপালগঞ্জে দুদকের গণশুনানি চলাকালে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলামের পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি দখল এবং সেখানে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অত্যান্ত দ্রুততার সাথে আমরা জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখল উদ্ধার করে সেখানে কাঁটা তার দিয়ে ঘিরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছি। খাস জমি উদ্ধার ও সংরক্ষণ আমাদের নিয়মিত একটি কাজ। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা কিছুদিন ধরে খাস জমি উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছি। বেদখল হওয়া এসব জমি অনেক মূল্যবান। ইতোমধ্যে অনেক জমি আমরা উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছি। জেলার ৫ টি উপজেলায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা এসব জমি কেবল উদ্ধার নয় – সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় পাইককান্দি ইউনিয়নের বিজয়পাশা মৌজার ১ একর ৭ শতাংশ খাস জমি অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে।

 

অভিযানে অন্যদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মী কায়সারসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

 

পাইকান্দি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকতারুজ্জামান আকতু বলেন, অবৈধ দখলকৃত জমিটি এক সময় গোচারণ ভূমি ছিলো। এলাকার যুবকরা ফুটবল খেলতো। ২০-২৫ বছর আগে ওই জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নেয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আবারও যাতে উদ্ধার হওয়া এ জমি অবৈধভাবে কেউ দখল করতে না পারে সে ব্যপারে প্রশসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

 

Ads