৯ মাসের শিশু কন্যাকে হারপিক খাইয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা

নাবিলা খাঁন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম


৯ মাসের শিশু কন্যাকে হারপিক খাইয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

ভাবের যন্ত্রনা সইতে না পেরে ৯ মাস বয়সের শিশু কন্যাকে হারপিক খাইয়ে হত্যা করেছে গর্ভধারিনী মা। এরপর, তার মা নিজেও হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে।

 

সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী দুপুরের পর টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো, আমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো,  আমিনুর রহমান বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মামুন তালুকদারের স্ত্রী আঁখি বেগম  গত শনিবার সন্ধ্যায় ৯ মাস বয়সের মেয়ে আফিয়াকে প্রথমে হারপিক খাওয়ান। এরপর সে নিজেও হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে  টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।  

 

হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয়রা জানান,  টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামের নূর আলম শেখের মেয়ে আঁখি বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মামুন তালুকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মামুন মাঝে মধ্যে গাছ কাটা শ্রমিকের কাজ শুরু করলেও মাসের অধিকাংশ সময় বেকার থাকেন। এতে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ও মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।  এরমধ্যে ৯ মাস আগে তাদের কোল জুড়ে  একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও মামুনের আয় রোজগারের কোন পরিবতন হয়না। ফলে, অভাব অনটন আরো বাড়তে থাকে। কোন কোন দিন এক বেলা খেয়ে কাটাতে হয়। একদিকে শিশু বাচ্চার খাবার অন্যদিকে নিজের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব বড় আকার ধারন করে। গত শনিবার সন্ধ্যায় অভাবের যন্ত্রনা ও শিশু বাচ্চার কান্না সইতে না পেরে ৯ মাস বয়সের মেয়ে আফিয়াকে প্রথমে হারপিক খাইয়ে হত্যার পর নিজেও হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।  টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল রাতেই গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

 

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, পরিবারটি অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছিল। এই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। তাই রাগ, দুঃখ ও অভিমানে মামুন তালুকদারের স্ত্রী আঁখি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিবারের অঅবেদনের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ  পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

Ads