গোপালগঞ্জের বেদে সম্প্রদ্বায়ের পড়ুয়া সন্তানের ল্যাবটপ উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক

নাবিলা খাঁন

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫১ পিএম


গোপালগঞ্জের বেদে সম্প্রদ্বায়ের পড়ুয়া সন্তানের ল্যাবটপ উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক

ছবি- সংগৃহীত।

 

রোমান মৃধা। পিতা,মৃত দবির মৃধা। গ্রাম, সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দিঘারকুল। সে বেদে সম্প্রদ্বায়ের সন্তান এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রোমানের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম একটি ল্যাবটপ উপহার দিয়েছেন। 

 

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে  ল্যাবটপ গ্রহন শেষে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর রোমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা তিন ভাই, তিন বোন। ভাইদের মধ্যে আমি ছোট। বড় দুই ভাই ফেরি করে ইঁদুরসহ পোকা-মাকড় মারার ওষুধ বিক্রি করে সংসার চালান এবং বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মা অন্যের বাড়ি কাজ করে বোনদের বিয়ে দিয়েছেন আর আমাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বাবা গোপালগঞ্জ শহরে রিকশা  চালাতেন। রিকশা চালিয়ে আমাদের বড় করেছেন এবং দিঘারকুল গ্রামে সাড়ে চার শতাংশ জমি কিনে একটি ঘর তৈরি করেছেন। সেখানে আমাদের বসবাস। গত ৮ বছর আগে বাবা মারা যান। আমি দিঘারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় নানান জনে নানান কথা বলতো। আমি কারো কথায় কান না দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। একই ইউনিয়নের শেখ মুজিব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে এসএসসি পাস করি। পরে, গোপালগঞ্জ শহরের হাজী লাল মিয়া সিটি কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকে মানবিকে জিপিএ ৪.৪৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করি। এরপর পর অন্যদের বাড়িতে গিয়ে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচও চালিয়েছি। এখন আমি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অনার্স পড়ি ও টিউশনি করি।  

 

রোমান আরো জানায়,বেসরকারি একটি সংগঠন আমাকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০শত টাকা দেন। সেটা দিয়ে আমার লেখাপড়া চলছে। বাড়িতে মাকেও খাবার খরচ পাঠাই।  কিন্তু, বর্তমান ডিজিটাল যুগে লেখাপড়ার সুবিধার জন্য কম্পিউটার বা ল্যাবটপ প্রয়োজন। ল্যাবটপ বা কম্পিউটার কিনতে যে অর্থের প্রয়োজন সেই সংগতি আমার নেই। এ অবস্থায় আমার মা লেখাপড়ার চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলমের কাছে একটি ল্যাবটপের আবেদন করেন। মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক স্যার আমাকে একটি ল্যাবটপ উপহার দিয়েছেন। ল্যাপটপটি পাওয়াতে আমার লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহ আরো বেড়ে গেল। রোমান মৃধার বৃদ্ধা মা ফুলজান বেগম বলেছেন, আমরা বেদে সম্প্রদায়। আমাদের কাজ হচ্ছে ফেরি করা। এর মধ্য থেকে আমার ছোটছেলে লেখাপড়ার করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় কষ্ট হলেও তাকে নিষেধ করিনি। আজ আমার ভালো লাগে আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমি গোপালগঞ্জের ডিসি স্যারের কাছে একটা ল্যাপটপের আবেদন করি। স্যার আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে ল্যাপটপ দেন। এখন একটা চাকরি হলে ওর ইচ্ছাটা পূরণ হবে। 

 

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি এমন কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ছেলেটির মা আমাকে বিষয়টি জানালে আমি রোমান মৃধার লেখারপড়ার সুবিধার্থে একটি ল্যাপটপ উপহার দিয়েছি। আরো যদি এই ধরনের কেউ থাকে আমি তাদের জন্যও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবো।

 

 

Ads