রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের প্রত্যাশা

সৈয়দা রাশিদা বারী

২৪ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম


রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের প্রত্যাশা

সৈয়দা রাশিদা বারী।

 

কটি দেশ সব সময়ই তার আপন গতিতে চলবে এবং এগিয়ে যাবে। দেশের ব্যাকিং খাত, পশু শিল্প,  ফসলী শিল্প, শিক্ষা শিল্প, পোশাক শিল্প খাত এমনি রয়েছে প্রত্যেকটা দেশে নানান সেক্টর। আরো কিছু উল্লেখ করার মতো যেমন রেল পরিবহন শিল্প, নদী নালা, প্রতিরক্ষা শিল্প, বিদ্যুৎ শিল্প, চিকিৎসা বিষয়ক শিল্প,  মিডিয়া,  সাহিত্য সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র শিল্প খাত এমনই হাজারো শিল্প মাত্রিক দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ।

পূর্বের সরকারের পতনে মানুষ নতুন দেশ হাতে পেয়েছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মাদ ইউনুস দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। এতে করে একঘেয়েমী লাগাতার শাসন হতে উদ্ধার হয়ে দেশবাসী খুশি হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন চমৎকার একটা জাতি গঠনে সংস্কার আশা করছে। এই প্রতিবেদনের আলোকে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরা হলোঃ

দেশের নির্বাহী প্রধান গঠনে কাঠামোঃ 
একটি সুনির্দিষ্ট রেখা বাস্তবায়ন করা দরকার, যেভাবে একজন সরকার প্রধান গঠিত হতে পারে। সর্বক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের লিডার, সে সব ক্ষমতার মালিক হতে পারবেন না। একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে সে তার ক্ষমতার অধিকারী হবেন। দুর্নীতি পরায়ণ অনৈতিকতায় তিনি কিছু বলা এবং কার্যকারিতা করতে পারবেন না। একটি দেশের রুল ও রেগুলেশন অনুযায়ী ১০ বছরের অধিক নির্বাচন ব্যবস্থায় সরকার প্রধান থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সাথে ব্যক্তি নিজে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। তাহলেই ক্ষমতা ছাড়ার পর বা ক্ষমতা হারা হলেও কাউকে দেশ ছেড়ে পালানোর প্রয়োজন পড়বে না। শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্মানের সাথে দেশেই বসবাস করবেন, দেশের সর্বোচ্চ গর্ব অহংকারের একজন গুণী মানুষ হয়ে।

সংসদ ভবনঃ
সংসদে সংসদদের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সাহসিকতা ও ভ‚মিকা। এমন যেন না হয়, সবাই প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে, তার দিকে সায় দিয়ে কথা না বলা। একইভাবে সদস্যদেরও  ২ মেয়াদের বেশী ক্ষমতায় আসার অধিকার না থাকা। তাহলে দেশ ও জাতি সুষ্ঠ সুন্দর আদর্শবান ভাবে গড়ে উঠবে।

বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা ও স্বায়ত্বশাসিত অধিকারঃ 
সরকার প্রধান ঢ, ণ, ত, যেই হোক না কেন নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ বিচার বিভাগ, আপিল বিভাগ, বিচারপতি, ও প্রধান বিচারপতির নির্দিষ্ট ক্ষমতা অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগ এর ভ‚মিকা সরাসরি থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোন রাজনীতিক মন্ত্রী, আমলাও ক্ষমতার বল প্রয়োগ এতে করতে পারবে না। তা না হলে অপরাধী ব্যক্তি নির্দোষী হিসেবে পরিণত হবে। ঠিক একইভাবে বিচারপতি নিয়োগে বিচারকদের অথবা জেলা জজদের পরীক্ষার মাধ্যমে/ কমিশন গঠনে নিয়োগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার প্রধান নিজে তার পছন্দের ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারবে না। তা না হলে অযোগ্য অদক্ষ ব্যক্তি, যোগ্য আসনে আসীন হবে, অযোগ্য বিচারক মালিকের মতো। সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশ প্রেমসহ বিবেকবান নিরপেক্ষ মানব অধিকার সম্পন্ন হতে হবে।

পুলিশ বিভাগ এর ক্ষমতা, অধিকার:
বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগেও বিশেষ ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে। তারা সরকারের ইচ্ছায় পরিচালিত হবে না, যদি সরকারের মন্ত্রী আমলারা দুর্নীতি করে তাতেও তারা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, গ্রেফতার পারোয়ানা ও শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে পারবে। রাজনীতিক ও সরকার গঠিত মন্ত্রী, এমপিরা কোনরূপ তাদের বিরুদ্ধে এ্যকশন, ট্রান্সফার এর ক্ষমতা অধিকার রাখবেন না। এসব বিষয়ে সংস্কার অতি জরুরী। যদি পুলিশ বিভাগে এই অবকাঠামো কাযকরী থাকতো তাহলে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ তারিখের পর থেকে যা হয়েছে ও ২মাস অন্তে এখনও হচ্ছে যা, এটা হতো না।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারঃ 
যেভাবে দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারী সাবেক সরকারের সময় ব্যাংক হরিলুট ও মুদ্রা টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে সেক্ষেত্রে ব্যাংক এর স্বায়ত্বশাসিত ক্ষমতা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলেই তাদেরকে দিয়ে মুদ্রা পাচার ও দুর্নীতির কাজ করাতে পারবে না। এক্ষেত্রে ব্যাংক এর জন্য নিম্নস্তর থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সবারই স্বায়ত্বশাসিত ক্ষমতা থাকতে হবে। যাতে করে উপরস্থ কর্মকর্তা নিম্ন কর্মকর্তাকে দুর্নীতি কাজের সাথে জড়িত কোন কাজে সিগনেচার ও ফাইল তৈরিতে চাপ দিতে পারবেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র প্রধান হলেও বলতে পারবেন না। এসব উপরিউক্ত বিষয়গুলো এখন সবার দাবী এ অন্তবর্তী কালীন সরকারের কাছে। এই দাবী ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের কাছে। এই বিষয়গুলো ন্যূনতম হলেও বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের নীতি মালায় পরিণত করা। তাতে দেশ ও জাতি একটি সুন্দর দেশ পাবে। দুর্নীতি থাকবে না। আমাদের প্রত্যাশা এই অন্তবর্তী সরকার সত্যিকারেই আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ উপহার দেবে সমগ্র জাতিকে ইনশাল্লাহ।

মিডিয়া ও লেখক, কবি সাহিত্যিক, গীতিকারঃ 
অত্যাধিক মেধাদীপ্ত গুণবান এই কলমযোদ্ধাগণ। মিডিয়া এবং কলমযোদ্ধা, কলমযোদ্ধা এবং মিডিয়া অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। কেউ কারো ছেড়ে নয়। একে অপরে মিলে পথচলা মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ও কলমযোদ্ধার। আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান শক্তি বলে যাদের পেটের ভাত ভিটে মাটির অন্বেষণ। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিভাবান লেখকের লেখার বাক স্বাধীনতায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ করা চলবে না। সত্য প্রকাশে লেখকের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। চাপ সৃষ্টির ফলে কলম চালানো ওটা কোন লেখা হতে পারে না। তাই ক্ষমতার বলে লেখাতে ও লেখায় বাধা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। রুখতে পারবে না প্রকাশনার বলয় ও লেখকের কলম সমন্বয় কারীদের। সরকারের কোন শক্তি বা শনির আশ্রম অপশক্তি। যেটাতে মিডিয়া এবং কলম সৈনিকের কোনঠাসা অবস্থাও দেশের অবণতি ডেকে আনে। তাই এর প্রকাশ আটকাবে না। সব খাতের মতো এই খাতেরও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার আশু উন্নয়ন প্রযোজ্য। কেননা সাহিত্য সংস্কৃতিই ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারা বর্ণনার অমর বাহক তাই এটাও একটি শিল্পের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান শিল্প।

প্রিন্ট, অনলাইন, দূরাভাস রেডিও তরঙ্গসহ শারীরিক সম্প্রচার টেলিভিশন গণমাধ্যম শিল্পঃ
সরকার তথা জাতীয় বিষয়ন্তে অতুলনীয় এই সম্প্রচার শিল্প। ইতিহাস ঐতিহ্যে ধরে রাখার সবোত্তম ধারক বাহক গণমাধ্যম। এই শিল্পও জাতির মেরুদন্ড তাই উন্নতির জন্য সরকারের সহযোগিতা অতি জরুরী। এই শিল্প ছাড়া দেশের অবকাঠামো পথ হারা দিশেহারা। দেশ অচল।  

সংস্কারের প্রশ্নেই তাই এই প্রতিষ্ঠান ও শিল্পর অনুকুলে সুযোগ সুবিধার আশুলাভ প্রতিষ্ঠানকে উজ্জীবিত করবে বলে এক তথ্যসূত্রে জানা যাই। তাহলেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এই গণমাধ্যম শিল্প, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং উন্নতি বাস্তবায়ন হয়ে।

নারী:
অবশ্যই নারী-পুরুষের সমন্বয়ে এই শিল্পের এগিয়ে যাওয়া এবং পথচলা। নারীর শিল্পর খাত যদি পুরুষের সমপরিমাণে না হয়, তাহলে দেশ পূর্বদিনের মতোই আবার পিছনগামী অর্থাৎ পিছিয়ে পরার সম্ভাবনা। আবার নারীর হারও সমাজে পুরুষের সমপরিমাণ ছাড়া কম নেই।

প্রতিবেশি, গরীব অসহায় বিবেচনায় দেশ প্রকৃতি সব কিছুতে নারীর বূমিকা অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে সকল সেক্টরের সংস্কার করণ ও সুযোগ সুবিধায় নারী পুরুষ ৫০/৫০ অন্তত কোঠা হতে হবে। অর্থাৎ পুরুষ ৫০ভাগ নারী ৫০ভাগ মা বাবার সম্পদের অধিকারের মতো পুরুষ ২ভাগ, নারী ১ভাগ, এই রকম যেন না হয়। সমান অধিকার রাখলে দেশ রাষ্ট্র সমাজ রাজ সত্ত্বানুসারে পিছিয়ে পরার আশংকা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে বলে গবেষণা সুত্র থেকে জানা যায়।
 

 

বি:দ্র: সম্পূর্ণ মতামতটি লেখকের এবং এর দায়ও লেখকের।

 

Ads