১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পিএম


১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ ও সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দূষিত ও জীবাণুযুক্ত পানি যেমন মানুষের জন্য অপরিহার্য, তেমনি তা বিভিন্ন রোগ ও মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও উজানে পানি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কারণে অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দক্ষিণাঞ্চলের দিকে উঠে আসছে।

এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেখানকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে যে সমন্বিত প্রকল্পের কথা আলোচনা হয়েছে, তার ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এসব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে নিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি সহায়তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে অতীতে পাওয়া সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর নিজেদের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণও কমছে। তাই সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে বিদেশি সহায়তা ও দেশের নিজস্ব সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Ads