ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ-তৈরি পোশাকের বাজার বাড়াতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশি আলু, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় মাত্র প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব। এ জন্য বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৈঠকে বাংলাদেশি ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব পণ্য বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ রপ্তানি বাড়াতে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর জন্য দেশটির সহযোগিতা চান তিনি। এ সময় জাকার্তায় বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য নিয়ে একটি ‘সোলো এক্সিবিশন’ আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা হলেও তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থমকে আছে।
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে প্রতিযোগিতা থাকলেও বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনাকে বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।
বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব জটিলতার কারণে তা এগোয়নি।
এ ছাড়া হালাল পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে হালাল সনদ ও মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতি এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


































