মালয়েশিয়ায় বন্দি ২ হাজার বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
২২ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বহু বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন এবং বিভিন্ন জটিলতায় যারা কারাগারে আটকে আছেন, তাদের মুক্ত করার জন্য সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত রোববার (২১ জুন) রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান আইনের পরিধিতে থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায় করা সম্ভব, তার সবকিছুই করবে সরকার। এ সময় তিনি প্রবাসীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সামনে এক বিশাল সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে অতীতে যা ঘটেছে, সেজন্য তিনি কারও ওপর কোনো প্রতিশোধ নিতে চান না; বরং ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
অধিকারের পাশাপাশি কর্তব্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় যাতে কোনো অদক্ষ শ্রমিক এসে বিপাকে না পড়েন, সেজন্য দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে দেশটির সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরে যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাবেন, তাদের জন্য সরকার মৌলিক আরবি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেবে। এছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে স্কুলের সিলেবাসে পাঁচটি খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক থাকবে এবং তাদের কৃতকার্য হতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এর অংশ হিসেবে দেশের সন্তানদের পাঁচটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মধ্যে ইংরেজি ভাষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।






























