চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নবীন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা বলেন, নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভিন্নভাবে চিন্তা করা, নানা উপায়ে সমস্যার সমাধান করা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে। একই সঙ্গে সহনশীলতা, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মেধাবী মানুষের পাশাপাশি মানবিক মানুষও তৈরি হবে। নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের কথাও ভাবতে হবে। সমাজের দুর্বল মানুষ কিংবা কোনো সমস্যা দেখলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮০০ ডলার থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবীন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা যেখানেই যাও, এই দেশের জন্য কিছু করবে। মানুষ হিসেবে বড় হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের রাষ্ট্রের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।
শিক্ষকদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সমাজ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সমস্যা সমাধানের পথও দেখাতে হবে। এ জন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে কৃষি, পরিবেশ, পানি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এমন গবেষণা প্রয়োজন, যার ফলাফল শুধু জার্নালে প্রকাশিত হবে না; বরং বাস্তব জীবনে মানুষের উপকারে আসবে এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


























