পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, কুষ্টিয়ায় দুই ইউনিয়নের ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি


পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, কুষ্টিয়ায় দুই ইউনিয়নের ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় হঠাৎ পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় দৌলতপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এ ছাড়া ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার পদ্মা নদীর পানি তিন সেন্টিমিটার বেড়েছে। রোববার পর্যন্ত পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। তবে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সাময়িকভাবে পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় পানি ঢুকেছে। তবে এ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি কমে আসবে বলে তথ্য রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমেদ বলেন, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, দুই ইউনিয়নের দুটি মাদ্রাসা ও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত মানুষ প্রয়োজনে এসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদীতীরবর্তী হওয়ায় প্রতিবছরই বন্যার সময় এসব এলাকার মানুষকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে কৃষকেরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ায় সামগ্রিক ফসলের ক্ষতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব হয়।

তিনি জানান, শনিবার পর্যন্ত উপজেলার ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির কলা ও সবজি জাতীয় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন সহায়তার আওতায় কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, গত তিন দিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের দুটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় কোনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন পানিবন্দি মানুষ।

Ads