খাগড়াছড়িতে র্যালি-সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
খাগড়াছড়িতে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) শহরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটি’। এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মাননা: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষা’ (Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being)।
সকালে শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার-লারমা স্কয়ারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমবেত হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখান থেকে কালচারাল শোডাউন ও র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মারমা উন্নয়ন সংসদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা। উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রীতিময় চাকমার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য সচিব সুদর্শন চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সুজন চাকমা ঝিমিট।
আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদুল সুমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, লেখক ও গবেষক তানিম নওশাদ, ভাষা গবেষক খায়রুল নাহার ঈপ্সিতা, বাংলাদেশ জনতার সংসদের সভাপতি মাহফুজুর রহমান শামীম, পানছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা এবং জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল।
বক্তারা আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এবারের প্রতিপাদ্যের আলোকে আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকা, মাতৃস্বাস্থ্য ও নিরাপদ প্রসবসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে ভূমি, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন বক্তারা।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ভাষা ও ঐতিহ্য নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় ধাত্রীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে একই দিন সকালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, খাগড়াছড়ি পার্বত্যাঞ্চল কমিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় সদর পৌর এলাকার ইয়ংড বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়। র্যালিটি শহরের শাপলা চত্বর হয়ে শান্তিনগর মোড় প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে শাপলা চত্বরের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ‘দি কনসার্ন স্পেনস ও জাপান’-এর মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য বিজ্ঞানী নীল রঞ্জন দাস গুপ্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুম আকতার, ব্যবসায়ী বেলাল চৌধুরী, আদিবাসী ফোরাম জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, সহ-সভাপতি প্রবৃত্তি কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক চাইথোয়াই মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারী অধিকারকর্মী নমিতা চাকমা এবং সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সিদ্ধেশ্বর দেওয়ানসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও অবদান সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।




































