দিঘীনালায় ৩০০ বন্যাদুর্গত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০টি পরিবারের মধ্যে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা (এমপিসিজি) ও হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে দিঘীনালা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত 'Alert B075: Rainfall-Induced Flash Flooding and Landslide in Eastern Bangladesh' প্রকল্পের আওতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীরণ চাকমা এবং দিঘীনালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সোহেল রানা।
আয়োজকরা জানান, প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা এবং একটি করে হাইজিন কিট দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মেরুং ইউনিয়নে এ বিতরণের মাধ্যমে অ্যালার্ট বি-০৭৫ প্রকল্পের সহায়তা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দিঘীনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এবং খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ও কমলছড়ি—এই চারটি ইউনিয়নের মোট ৮০০টি বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীনা চাকমা বলেন, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সমান গুরুত্বের সঙ্গে সহায়তা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অনিয়মমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ি বা সম্পদের ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি মানুষের জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তার জন্য নগদ অর্থ ও হাইজিন কিট কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বক্তারা দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ, কারিতাস বাংলাদেশ ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।




































