গুইমারায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম


গুইমারায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

 

গুইমারা উপজেলা পরিষদ সন্মেলন কক্ষে “অ্যাকসেস টু এন্ড ইউটিলাইজেশন অফ লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পটি জাবারাং কর্তৃক খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নামে একটি আর্ন্তজাতিক সংস্থা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না এবং অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে, প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং প্রকল্পের বিস্তারিত কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন প্রকল্পের সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব, মিসকাতুল তামান্না বলেন, “মাঠ পর্যায়ে মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি (স্যাম) ও মাঝারি তীব্র অপুষ্টি (ম্যাম) শিশুদের খাদ্য ঝুড়ি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযধ মনিটরিং করতে হবে যাতে, সাহায্যের টাকাগুলো শিশুদের সঠিকভাবে খাদ্য খাওয়ানো হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করি। তবে প্রকল্পের মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত সেন বলেন, “এই প্রকল্পটি খুবই যুগোপযোগী, এই প্রকল্পটি বান্তবায়নের মাধ্যমে আগামীতে শিশুদের মস্তিস্ক প্রসারিত হবে। মায়েদের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার রান্না করার কৌশল শিখাতে পারলে শিশুরা উপকৃত হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ খুবই স্বল্প, তাই ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো দরকার।”

উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি ঠিক আছে। শিশুদের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের খাদ্যে পুষ্টি ধরে রাখার বিষয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক সেশন পরিচালনা করতে হবে| মাঠ পর্যায়ে সুপারভিশন ঠিক রাখতে পারলে প্রকল্পের মাধ্যমে অপুষ্টি শিশু কমানো যাবে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি জাবারাং নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন,“প্রকল্পের ব্যাপারে আপনাদের সুমতামত মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, আমরা এটা শিখন হিসেবে নিলাম। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও পরামর্শ নিয়েই প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন কো সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন।”

প্রকল্পের তথ্য মতে, প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে সমন্বিত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও ওয়াশ কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও তাদের পরিবারের পুষ্টি অবস্থা, স্বাস্থ্য সহনশীলতা এবং সার্বিক কল্যাণ উন্নয়ন করা।

প্রকল্পের ৩টি অর্জনযোগ্য ফলাফলের মধ্যে রয়েছে এক. পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, দুই. তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত ও মাঝারি তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের জন্য খাদ্য ও জীবিকায়ন নিরাপত্তা জোরদারকরণ; তিন. লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি।

এছাড়া ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের সেবা প্রদানকারীদের জন্য তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালসমূহের অপুষ্টি ইউনিটসমূহে অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।

তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা জোরদার মৃত্যুহার ও অসুস্থতার হার হ্রাস করার লক্ষ্যে তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত ও মাঝারী তীব্র অপুষ্টি এ আক্রান্ত শিশুদের জরুরি পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারসমূহের অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও ¯^নির্ভরতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নগদ অর্থ সহায়তা এবং জীবিকাভিত্তিক সহায়তা প্রদান করা।

প্রকল্পের তথ্য মতে, তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত পরিবারের সংখ্যা ৮৩ এবং মাঝারী তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত পরিবারের সংখ্যা ১০৬০টি তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত শিশু পরিবারকে দুই মাস ও মাঝারী তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত শিশু পরিবারকে ২ মাস আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গুইমারা উপজেলার প্রকল্প সমন্বয়কারী অরুন জ্যোতি চাকমা।

 

Ads