খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কৃষি ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতি
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বহু এলাকার বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খাগড়াছড়ির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২২১ হেক্টর পাকা ধান, ৬৩ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন নিচু এলাকার কৃষকরা, যাদের জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় পাকা ধানসহ সব ধরনের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে অনেক জমি মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক জায়গায় ধান কাটার উপযোগী হলেও মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রস্তুত ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে। সবজি ক্ষেতের গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ফলবাগানের গাছপালাও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদিনের চিত্রে বলেন, “বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিজমির ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”
এদিকে শুধু কৃষিই নয়, খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বহু মানুষের বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও টিনের ঘর ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঘরের দেয়াল ও মাটি ধসে গেছে। এতে অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আকস্মিক পানির চাপ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা এখন পুনর্বাসন ও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক বেশি।
কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাস সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।




































