খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন: বৈষম্য ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
দুর্বার নেটওয়ার্ক, খাগড়াছড়ি জেলা ও নারীপক্ষের যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৭মার্চ) খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে নারীর প্রতি বৈষম্য ও অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং নারীর সম-অধিকার আদায়ের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ইতিহাসে নারী অধিকার আন্দোলনের সূচনা যদিও সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন, তবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি শুরু হয় ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ, নিউ ইয়র্কের সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে। বিপদজনক ও অমানবিক কর্মপরিবেশ, স্বল্প মজুরি ও দৈনিক দীর্ঘ শ্রমঘন্টার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের ওপর পুলিশ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাব অনুযায়ী ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে।
বাংলাদেশে গত ৩৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির উদ্যোগে একেকটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো:
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা”।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নারী সংসদ সদস্যদের সংখ্যা বাড়লেও ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত নারীর সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কম। রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন তালিকায় নারী ছিল নামমাত্র, এবং মনোনয়নের বিপরীতে জয়ী নারীর হার মাত্র ৮ শতাংশের বেশি।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ৫০ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। নারী আন্দোলনের দাবি ছিল অন্তত ৩৩ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে গড় মাত্র ৩.৯৮ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলাম কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এখানে নারীর যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংরক্ষিত আসন যেন লোক দেখানো না হয়ে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিশ্চিত হয়। বক্তারা সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে, নারীর উপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দিয়েছেন।
এছাড়া, আগামী সকল নির্বাচনে নারীর সরাসরি নির্বাচনের নীতিমালা গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নারীর প্রতি সকল অসম্মানজনক আচরণ বন্ধ এবং নারীর রাজনৈতিক পারদর্শিতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রয়োজনীয়তাও মানববন্ধনে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক গীতিকা ত্রিপুরা।
ওইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের সদস্য উখি চাকমা সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দুর্বার নেটওয়ার্কের নমিতা চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের আবাসন বিষয়ক সম্পাদক চাইথোয়াই মারমা, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি সোনিয়া দাশ, মারমা কল্যাণ সমিতির উক্রাচিং মারমা, ওইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের পিংকি বড়ুয়া ও খুরশিদা আক্তার।


























