ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০২ পিএম


ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার

 

রসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের অভিযোগ করায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী শ্রমিককে তার বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আমেনা বরিশালের বাসিন্দা এবং বাবার সঙ্গে মাধবদীর একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করত। তারা বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা দীর্ঘদিন ধরে আমেনাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে একটি দল আমেনাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আহমেদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও, অভিযোগ করায় আমেনার পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল নুরা ও তার সহযোগীরা।

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বাবা তার মেয়েকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বরইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরা ও তার ৫-৬ জন সহযোগী বাবার সামনে থেকেই আমেনাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে পার্শ্ববর্তী সরিষা ক্ষেতে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্ত: আজ শুক্রবার পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

নির্দেশনা: নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, নুরা বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমেনা রাজি হয়নি। ১৫ দিন আগে নুরা ও তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে তারা হুমকি দিচ্ছিল কেন ধর্ষণের বিচার চেয়েছি। বুধবার রাতে আবার নুরা ও তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। সকালে জানতে পারলাম আমেনার লাশ পাওয়া গেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আহমেদ বলেন, মেয়েটির পরিবারের অনুরোধে ধর্ষণের ঘটনার মীমাংসা হয়েছিল। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে আবার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। আমি বাসায় ছিলাম না। এখন যেহেতু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বা পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানিয়েছেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার ইউপি সদস্যদের কাছে বিচার না চেয়ে থানায় আসার দরকার ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এবাদুল্লাহ, আহম্মদ আলী, ইমরান দেওয়ান ও মো. আইয়ুব। তারা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
 

Ads