খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি জোরালো

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম


খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি জোরালো

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া–কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহল মনে করছে—ওয়াদুদ ভূঁইয়া মন্ত্রী হলে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি ও শান্তি-সম্প্রীতির সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট। এই বিপুল ব্যবধানের জয় খাগড়াছড়ি জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে ওয়াদুদ ভূঁইয়া পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর কাছেই আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁরা মনে করেন, মন্ত্রিত্ব পেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় খাগড়াছড়ি আরও দৃশ্যমান গুরুত্ব পাবে।

স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক ফোরাসের সাবেক সভাপতি ও সামাজিক সংগঠক রানা হামিদ বলেন, প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ওয়াদুদ ভূঁইয়া সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত। তার ভাষায়, “রাঙামাটি ও বান্দরবান একাধিকবার মন্ত্রী পেয়েছে। এবার খাগড়াছড়ির মানুষের ন্যায্য দাবি একজন পূর্ণমন্ত্রী।”

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা একটি কৌশলগত ও বহুজাতিক অধ্যুষিত অঞ্চল। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় খাগড়াছড়িতে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুল আলম সবুজ বলেন, “এত বড় ব্যবধানে জয় মানে মানুষের প্রত্যাশাও বড়। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্ত প্রতিনিধিত্ব জরুরি।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার জানান, পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ায় দলীয়ভাবেও আশা করা হচ্ছে—কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ, মারমা ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবৃতির মাধ্যমে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের জটিল সামাজিক-ভৌগোলিক বাস্তবতায় উন্নয়ন ও সম্প্রীতির জন্য অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এর আগেও ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে।

খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি এখন কেবল দলীয় প্রত্যাশায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষায়। তবে মন্ত্রিসভা গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা কতটা প্রতিফলিত হয়- সেদিকেই এখন তাকিয়ে খাগড়াছড়ি।

Ads