কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করছে শিক্ষকরা

শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে: সাধারণ অভিভাবক

চৈতন্য চ্যাটার্জী

১০ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম


শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে: সাধারণ অভিভাবক

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে শিক্ষকদের উপর পুলিশের হামলা প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নেমেছেন দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এরি অংশ হিসেবে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করছে শিক্ষকরা।

আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আক্কেলপুর মডেল সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ফজল মোহাম্মদ রায়হান এর নেতৃত্বে  তারা বিক্ষোভ করেন। সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ।

এর ফলে এই উপজেলায় ৬৯ টি প্রাথমিক স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিনের মতো শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও শিক্ষকরা পাঠদান না করায় নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।

সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেও মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামায় ক্লাস ও পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবকরা।

ক্ষুব্ধ  সুমন, বিকাশ, বিষু ও সুজনসহ অভিভাবকরা জানান, “বছরে দুই একবার শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে হঠাৎ করে ক্লাস বন্ধ করে আন্দোলন করছে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের সন্তানরা। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন উদাসীনতা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। দাবি-দাওয়া থাকতে পারে, কিন্তু তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে করা উচিত নয়।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা আবুল ফজল মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ঢাকায় শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি আদায় বাস্তবায়নের আন্দোলনের সময় পুলিশ হামলার চালাই, এতে আমাদের শিক্ষকরা আহত হয়। শিক্ষকদের উপর পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে আমরা কেন্দ্রীয় ঘোষনা অনুযায়ী ক্লাস বন্ধ রেখেছি। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, আমাদের তিন দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে কর্মবিরতি অবসানের সুযোগ করে দিন। তিনি আরও বলেন অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদের সহ ৪ জন শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।  

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি শিক্ষকদের স্কুল ফিরে যেতে বলেছি। যদি কোন মানববন্ধন করতে হয় তাহলে স্কুল শেষে করতে পারে।

 

Ads