খাগড়াছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সরস্বতী পূজা উদযাপন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম


খাগড়াছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সরস্বতী পূজা উদযাপন

 

ঢাক-ঢোল, কাঁসর আর শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির, সনাতনী ত্রিপুরা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাড়া-প্রতিপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত হলো বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পূজা। এক হাতে বীণা, অন্য হাতে গ্রন্থ, বাহনে রাজহাঁস—এই মহিমান্বিত রূপে দেবী এসেছেন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিদ্যা ও সুরের বরদান নিয়ে। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে অগণিত ভক্ত দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করার প্রার্থনা জানান।  

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা সদরের কেন্দ্রীয় লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির, কমলছড়ি ইউনিয়নের মঙ্গলচান পাড়া, পেরাছড়া ইউনিয়নের ৪ মাইল দেবেন্দ্র মোহন পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর ও চন্দন দিয়ে স্নান করিয়ে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় বাণী অর্চনা।  

শিক্ষার্থীদের বিদ্যাচর্চার শুভ সূচনা করতে দেবীর সামনে ‘হাতেখড়ি’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে সনাতনী শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও ধর্মপ্রাণ ভক্তরা অংশ নেন।  

পূজায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “জীবনের চলার পথে জ্ঞান ও বুদ্ধি অর্জনের জন্য আমরা মায়ের কৃপা কামনা করি।” আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সরস্বতী মায়ের আশীর্বাদে আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং আমরা শিক্ষাজীবনে ভালো করতে পারি।”  

অভিভাবকরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর সন্তানদের বিদ্যা-বুদ্ধি ও জ্ঞান অর্জনের আশায় সরস্বতী পূজায় অংশ নিই এবং দেবীর আশীর্বাদ কামনা করি।”  

উৎসবকে ঘিরে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পল্লীগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিমূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূজার্চনা সম্পন্ন হয়।

 

Ads