মৌসুমের সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি

চৈতন্য চ্যাটার্জী

০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম


মৌসুমের সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

কৃষিপ্রধান এলাকা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে শীতকালীন কাঁচা সবজি। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে অল্প দামে বিক্রি হচ্ছে। 

সপ্তাহ ধরে মৌসুমের সবচেয়ে কম দামে সবজি বিক্রি হয়েছে আক্কেলপুর কলেজ হাট পাইকারি বাজারে। কলেজ হাট পাইকারি বাজারে ফুলকপি প্রতি পিচ ৩টাকা এছাড়া প্রতি কেজি মূলা ২ টাকা, সিম ৭টাকা, লোদা বেগুন ১০ টাকা, ছোট লাল বেগুন ৭টাকা, পালং শাক ৬টাকা, শসা ১৫টাকা, কারেজ আলু ৩৫ থেকে ৪০টাকা, পেয়াজ৪০, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা, ধনে পাতা ১৫টাকা, বাঁধাকপি প্রতিটি ১০-১২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ অল্প দামে সবজি কিনতে পারলেও লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকগণ।

কৃষি অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, উপজেলায় শীতকালে ২৪ থেকে ২৫ প্রকার শাক সবজির চাষ হয়ে থাকে, গ্রীষ্মকালে চাষ হয় ১৫ থেকে ১৬ প্রকার শাক সবজি। শীত মৌসুমে আক্কেলপুর পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে নানা জাতের সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। বর্তমানে শীতকালীন বেগুন, সিম, পালং ও লালশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনে পাতা, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি বাজারে উঠেছে। কলেজ বাজার হাটে প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজির সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম কম থাকায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এই উপজেলার কৃষকেরা।

চাষীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে মূলা ৪০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও ১৫ দিন ধরেই কমেছে সবজির দাম। ১৫ দিন আগে ফুলকপি প্রতিপিচ ৪০-৫০টাকা করলেও এখন তা সর্বোচ্চ ২-৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেলেও এখন দাম কমে আসায় লোকসানের মূখে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে।

উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের মুলা চাষী মো. মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এক টাকায় চকলেট না মিললেও মিলছে এক কেজি মুলা এতে করে ভ্যান ভাড়া ও লেবারেরও খরচা উঠছে না। আমি এবার এক বিঘা জমিতে মুলা চাষ করেছি। আজ হাটে ৬মন মুলা নিয়ে এসেছি। মৌসুমের প্রথমে মুলার ভালো দাম পেলেও আজ এক থেকে দেড় টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদিত ফসলের নায্য দামও পাচ্ছি না।

চাষী তুহিন বলেন, আমি পালং শাক নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় হাটে ফেলে দিয়ে গেলাম।

আক্কেলপুর কলেজ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আমিনুর হোসেন বলেন, ‘বাজারে প্রচুর শীতের সবজি আমদানী হওয়ায় দাম কমেছে। এখন বাজারে সবজির দামে ধস নেমেছে। কৃষকের আয় কমেছে। তবে ক্রেতারা অল্প দামে সবজি পেয়ে বড্ড খুশি।’

বাজারে আসা ক্রেতা মিনার হোসেন বলেন, ‘সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এ কারণে দামও কমে এসেছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় চলতি মৌসেুমে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে ৫৩০ হেক্টর জমিতে। গত বছর সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছিল। আশা করা হচ্ছে এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চলতি মৌসুমে সবজির ভালো ফলন হওয়ায় ও বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দামও কমে এসেছে।’

Ads