আক্কেলপুরের কৃষকরা ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত

চৈতন্য চ্যাটার্জী

১২ মার্চ ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম


আক্কেলপুরের কৃষকরা ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলাজুড়ে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ভাগ জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন কৃষকেরা। এদিকে বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ঔষুধের দাম বেশি থাকায় ধান চাষে বিঘা প্রতি পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে কৃষকেরা জানান। 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১০হাজার ৩শত ৩৬হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলাজুড়ে উফশী ৯ হাজার ৩শত ১৪হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ১হাজার ২২হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হচ্ছে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬হাজার ৮শত মেট্রিক টন ।

 

 

উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়রের চক রোয়াইর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এই মাঠের অধিকাংশ জমিতেই ধান রোপণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। তিনি আরো বলেন, বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ঔষুধের দাম বেশি থাকায় ও বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের মাধম্যে পানি সেচ নেওয়ায় কৃষকদের ধান চাষে বিঘা প্রতি পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এসবের দাম কমে গেলে কৃষকরা ধান চাষে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করেন।


উপজেলার রায়কালি ইউনিয়নের নারিকেলী গ্রামের কৃষক মোঃ ইসাহক আলী বলেন, ৯ বিঘা জমিতে ইরি বোরো আবাদের করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও এ বছর ইরি- বোরো ধান চাষে খরচ অন্যান্য বছরের চেয়ে খরচ একটু বেশি, বলে খানিকটা চিন্তিত তিনি।


আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন জানান, ইরি-বোরো ধান চাষে সুষমের মাত্রায় সার প্রয়োগের জন্য ও সঙ্গে সঙ্গে লাইন, লোগো এবং পার্চিং করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০হাজার ৩শত ৩৬হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১৬ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ইরি-বোরো চাষ বেশি হওয়ার সম্ভবনা। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার উপজেলায়  প্রনোদোনা কর্মসূচীর আওতায় ১১ হাজার ৫শত ৩০জন কৃষকের মাঝে ধান, ভুট্টা, গম, সরিষা, ও পেয়াজ চাষের জন্য বিনামূল্যে  বীজ ও সার প্রদান করেছেন।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাত্রা অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে আর্সেনিক সূচক ও জলবায়ু হুমকির মূখে পরছে দিন দিন। এতে করে মাটির নিচে থাকা পানির স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে। তারি ধারবাহিকতায় (AWD) এর প্রকল্পের আওতায় জেলার কৃষকদের পানির অপচয় রোধ করার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 

 

Ads