আক্কেলপুরে আলুর ক্ষেতে লেটব্লাইট রোগের সংক্রমণ
২০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৭ পিএম
আক্কেলপুর আলু ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন এক কৃষক। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় আলুর ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে লেটব্লাইট বা পচাকানা রোগ। কীটনাশক প্রয়োগেও সুফল মিলছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহতসহ লোকসানের আশঙ্কায় দিন পার করছেন কৃষকরা। দিনে অতিরিক্ত এবং রাতে কম তাপমাত্রার কারেণ এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় কৃষি দপ্তর। কৃষি অধিদপ্তর থেকে রোগ দমনে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেটসহ কৃষকদের নিয়ে দলীয় আলোচনা, ওঠান বৈঠক।
আক্কেলপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় এবার ৫ হাজার ৮শ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৫হাজার ৯২০ হেক্টর। যেখান থেকে ১লাখ ৩৯ হাজার ১২০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হেক্টর জমিতে দেখা দিয়েছে পচাকানা রোগ। এই রোগ নিরাময়ে কৃষকরা কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে বিভিন্ন কোম্পানির বালাইনাশক প্রয়োগ করেছেন । এতেও সুফল মিলছে না আলু চাষিদের। পচন রোগটি হচ্ছে ছত্রাকজনিত। আলুর জন্য শীত উত্তম আবহাওয়া। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমবেশি হলে ছত্রাকজাতীয় রোগ লেটব্লাইটের আক্রমণ ঘটে। মূলত এটা ছাড়া আলুর আর তেমন কোনো রোগ দেখা যায় না। সাধারণত, কুয়াশার সময় আলু চাষে সপ্তাহে একবার ছত্রাকনাশক ছিটাতে হয়। বৈরী আবহাওয়ায় আক্কেলপুর পৌরসভাসহ উপজেলার গোপীনাথপুর, রায়কালী, সোনামুখী, তিলকপুর এবং রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের আলু ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে আলু গাছের পাতা পচে গিয়ে গাছ মরে যায়।

আক্কেলপুর উপজেলা সোনামুখী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামের আলুচাষি জহুরুল ইসলাম জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারও সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে আলু রোপন করেছি। হঠাৎ করে আমার জমিতে আলুতে ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে লেটব্লাইট বা পচাকানা রোগ । কীটনাশক দিয়েও কোন উপকারিতা পাচ্ছি না। একদিন কীটনাশক দিতে দেরি করলেই পচাকানা রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে জমির অধিকাংশ গাছ মারা যাচ্ছে। এবার আলুর বীজের দাম ও কৃষান খরচ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘার আলু রোপণ করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার খরচ হয়েছে। রোগ দমনে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করেও রোগের হাত থেকে ক্ষেত রক্ষা করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি । আলুগাছ রক্ষা করা না গেলে উৎপাদন কমে গিয়ে লোকসান গুনতে হবে কৃষকদের।

উপজেলার রায়কালি ইউনিয়নের সনাতনপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি এবার ৪৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ পরবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে ডায়মন্ড আলু ফলন হবে প্রায় ১শ থেকে ১শ ২৫ মন। আমার কিছু জমিতে পচাকানা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল কীটনাশক ও উপজেলা কৃষির অফিসের পরামর্শ এখন পর্যন্ত ভালো।
মেসার্স রিয়াদ ট্রের্ডাসের কীটনাশক ব্যবসায়ী মোঃ এমদাদুল হক বলেন, ম্যাটালিক্স, ম্যানকোজেব, এমিষ্টার টপ, সাইমাক্লোনিল কার্বোডাজিম গ্রুপের বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। এতে কিছুটা সুফলও পাচ্ছেন তারা । তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, সম্প্রতি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র শীত, ঘন কুয়াশাছন্ন আবহাওয়ার কারণে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় আলুগাছে লেটব্লাইট বা পচাকানা রোগ উপজেলার বেশ কয়টি স্থানে দেখা দিয়েছে। দিন রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে বিস্তৃত হচ্ছে রোগ। শীত ও ঘন কুয়াশা কমে গেলে রোগটি কমে আসবে বলে আশা করি। আমরা রোগ দমনে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিতরণ করছি লিফলেট। কৃষকদের নিয়ে দলীয় আলোচনা, ওঠান বৈঠক চলমান রয়েছে।






























