রেমাক্রি থেকে নাফাখুম, সৌন্দর্যময় ও প্রকৃতির অপূর্ব নির্দশন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৭ পিএম


রেমাক্রি থেকে নাফাখুম, সৌন্দর্যময় ও প্রকৃতির অপূর্ব নির্দশন

ঘনসবুজ অার গহীন অরণ্যর দেশে বেড়াতে অনেকের ভাল লাগে। ভাল লাগার জন্য বেড়ানো অন্যতম একটি জায়গা হচ্ছে, নাফাখুম। অনেকে একে বাংলার নায়াগ্রা জলপ্রপাত বলে ও অভিহিত করেছেন।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত বলার ও অনেক কারণ থাকতে পারে। যদি ঘুরে না বেড়ান তাহলে বুঝবেন কিভাবে। ঘুরে বেড়ালেই বুঝতেই পারবেন কেন নায়াগ্রা জলপ্রপাত বলা হচ্ছে।

অাবার অনেকে এই নাফাখুম কে পাথরের সাম্রাজ্যবাদ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ যখন ঘুরে বেড়াবেন তখন রাস্তার ধারে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা পাথর অাপনাকে সত্যিই মুগ্ধ করবে।

স্থাণীয়দের মধ্যে যারা অাদিকালের অনেক বয়োবৃদ্ধ অাছেন তাদের সাথে কথা বলে এই নাফাখুম সম্পর্কে কিছুটা ইতিহাস জানা গেল। মারমা ভাষার মতে অনেকে একে ঙাঃ-ফাঃখু্ম বলে।  অর্থাৎ ঙাঃ শব্দটির অর্থ মাছ অার ফাঃ শব্দটির অর্থ ব্যাঙ অার খুম হচ্ছে বিশাল জল বা বিশাল জলপ্রপাত। এখানকার অাদিবাসী বয়োবৃদ্ধরা বলেন,এক সময় এখানে প্রচুর মাছ ছিল বা থাকত অার তার সাথে সবসময় ব্যাঙ থাকত।মাছ অার ব্যাঙের খেলা হয় বলে একে ঙাঃফাঃখু্ম বলে নাম দিয়েছেন।

যখন রেমাক্রি পৌঁছে যাবেন স্বচ্ছ জলরাশিধারা অাপনাকে বিমোহিত করতে পারে। মন চাইলে ভিজিয়ে নিতে পারে। অার সেখান কিছুক্ষণ বিশ্রাম অার খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। তারপর একটানা তিন ঘন্টার পথ হাঁটা। তারপর অাপনার স্বপের গন্তব্য নাফাখুম এ পৌছে যাবেন।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকা বা চট্টগ্রাম যে কোন বাস থেকে অাসার পর অাপনাকে বান্দরবান হয়ে  থানচি অাসতে হবে। থানচি বাজার থেকে নৌকা নিয়ে রেমাক্রি অার সেখান থেকে নাফাখুম যাত্রা।

বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি নিয়ে বা বাসে থানচি অাসা যায়।

মনে রাখতে হবেঃ

স্থানীয় দক্ষ চালককে নিয়ে অবশ্যই যাবেন। নৌকার মাঝি ও দক্ষ অাছে । স্থানীয় জেলা প্রশাসক বা উপজেলার কতৃপক্ষের দেওয়া অাইডি কার্ড দেওয়া অাছে তাদের সাথে। অাপনার সুবিধামত সেখানকার গাইড নিয়ে যাবেন।

সাবধানতাঃ

সাঁতার যদি না জানেন তাহলে রেমাক্রি বা নাফাখুম পানিতে নামবেন না। যে কোন সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। না হলে বেড়ানোর অানন্দটা মাটি হয়ে যাবে। স্থাণীয় মানুষের জীবনধারা বা সংস্কৃতিকে সম্মান জানাবেন।তাদের অনুভূতির অাঘাত হয় ঐ ধরণের কথাবার্তা বলবেন না। অার জলপ্রপাতের পরিষ্কারের কথা অবশ্যই মনে রাখবেন।

যাওয়ার সময় অাপনার সুবিধা বা প্রয়োজনমত জিনিসপত্র নিয়ে যাবেন।

রাত্রীযাপনঃ
সেখানে স্থাণীয়দের গড়ে তোলা বিভিন্ন বাড়িঘর বা কটেজ রয়েছে। গাইডকে বললে তারা ব্যবস্থা করে দেবে।

Ads