তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির আইন বিরোধী

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২০ মার্চ ২০১৬, ০৪:৩৫ পিএম


তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির আইন বিরোধী

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে বাংলাদেশি দুই বোলার তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে হতবাক ও বিস্মিত বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। তার অভিযোগ, আইন অনুযায়ী তাসকিনকে কিছুতেই নিষিদ্ধ করতে পারে না আইসিসি। কিন্তু সেটা করে নিজের আইন নিজেই ভেঙ্গেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। তাসকিনকে শুধু সতর্ক করতে পারত।

দুই বোলারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক  নিষিদ্ধ করার এভাবে ব্যাখ্যা দেয় ক্রিকেটের আর্ন্তজাতিক সংস্থা, আরাফাত সানির বেশিরভাগ বলেই কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে যায়। আর তাসকিনের সমস্যা হয় কিছু কিছু বলে।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ আনেন আম্পায়াররা। এরপর চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন এই দুই ক্রিকেটার। শনিবার সকালে সেই পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়।  এরপরই দুই বোলারকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

স্পিনার আরাফাত সানির ব্যাপারে কথা না তুললেও তাসকিনকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটা মোটেও আইনসিদ্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও ব্যাপারটা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইসিসির নিয়ম মতে পেসার তাসকিন আহমেদকে নিষিদ্ধ করার  সুযোগ নেই। অথচ আইসিসি নিজের  তৈরি  নিয়ম নিজেই ভেঙ্গেছে। তাসকিনকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে আইসিসির নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। আইনানুযায়ী আইসিসি তাসকিনতে সকর্ত করতে পারে।

আইসিসির নিয়ম, মাঠের দুই আম্পায়ারের দেয়া প্রতিবেদন এবং  ল্যাব পরীক্ষার ফল ঘেঁটে তিনি দেখেছেন যে,  তাসকিন কিছুতেই নিষিদ্ধ হতে পারেন না।

তিনি আইসিসির আইনের ২.২.৬ ধারা উল্লেখ করে বলেন, ল্যাব পরীক্ষায় বোলাররা সেসব ডেলিভারিই করবেন যেগুলোর জন্য আম্পায়াররা সন্দেহ করেছিলেন। অথচ মাঠের দুই আম্পায়ার তাসকিনকে সুনির্দিষ্ট কোন ডেলিভারির জন্য অভিযুক্ত করেননি।

পরীক্ষায় তাসকিনের কেবল বাউন্সারেই কিছুটা সমস্যা ছিল। তাও ৯ টি বাউন্সারের মধ্যে মাত্র ৩ টিতে । কিন্তু কথা হলো, হল্যান্ডের বিপক্ষে তাসকিন কোনো বাউন্সারই করেননি। তাই তাসকিনের বাউন্সারের পরীক্ষা নেওয়াও ঠিক নয়।

আইসিসির ২.২.৬ ধারাতেই বলা আছে এটা, যে ম্যাচে সন্দেহ হবে সেই ম্যাচের করা ডেলিভারির বাইরে অন্য কোনো ডেলিভারি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। মানে এখানে স্পষ্ট আইসিসির নিয়ম ভাঙ্গা হয়েছে।

তাসকিনের বাউন্সারে যদি সমস্যা থেকেই থাকে, তবে আইসিসির নিয়ম হলো- স্টক ডেলিভারির বাইরে অন্য ডেলিভারির জন্য বোলারকে সতর্ক করাই হবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। আর সতর্ক করার পর যদি কোন বোলার পরে এমন ভুল করেন তাহলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান মনে করেন, জুরিখে অবস্থিত আর্ন্তজাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করলেই আইসিসির নিষেধ উঠে যাবে। এবং তিনি  বিসিবিকে সেই পরামর্শই দিয়েছেন।

Ads