প্রসঙ্গ: রাজনীতিতে শুদ্ধাভিযান

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪৮ পিএম


প্রসঙ্গ: রাজনীতিতে শুদ্ধাভিযান

রাজনীতি চর্চার প্রয়োজন জনগণ ও সমাজের জন্য। রাজনীতি ছাড়া মানবসমাজ চলে না। দুনিয়ার শুরু থেকে মানুষ যখন সমাজবদ্ধভাবে চলতে শিখে তখন থেকে সংগঠন সৃষ্টি হয়। সংগঠন থেকে মানবজাতি ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরো উন্নত ও গতিশীল শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্টায় রাজনীতির শুরু। রাজনীতির চিন্তা চেতনা গবেষণা সেটা এক গভীর ও উচু মনের মানসিকতার পরিচয়। সমাজ ও মানুষকে শৃঙ্খলায় শান্তিতে প্রতিষ্টা করার নাম রাজনীতি। সমাজ ও মানুষের মঙ্গল গবেষণা আর চিন্তা করে রাজনীতির উদ্ভাবন। যারা মানুষের জাগতিক উন্নতি অগ্রগতি চিন্তা করে তারাই রাজনৈতিক দলের নেতা। এসব নেতাদের মানবীয় ব্যাপক ইতিবাচক গুণাবলী পাওয়া যায়। পৃথিবীতে দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে অদ্যাবধি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের ব্যাপক ভাবে সমাজে আলোচনা ও সমালোচনা চলমান আছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে কেউ পুরষ্কৃত, কেউ ধিকৃত। তাদের নিয়ে ইতিহাস রচিত হয়। হাজার হাজার বই কিতাব রচিত হয়। নাটক, সিনেমা যুগ যুগ ধরে ওইসব রাজনীতি আর নেতাদের নিয়ে তৈরী হয়। যাতে করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইতিহাস থেকে রাজনীতি ও নেতাদের সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। শিক্ষা, অনুশোচনা আর  পর্যালোচনা করতে পারে। পৃথিবীর রাজনীতি গভীরভাবে এখন উত্তপ্ত বলা যায়। রাজনীতির বিশ্ব নেতৃত্ব গুটিকয়েক দেশ ও নেতার নিকট বন্দি। তারা যেদিকে রাজনীতি অর্থনীতিকে পরিচালিত করছে, পৃথিবীকে সেদিকেই যেতে হচ্ছে। তাদের বাইরে যাওয়ার কোনো শক্তি এককভাবে অন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তেমন শক্তি দেখছি না। শক্তি শান্তি ওইসব দেশ ও নেতা কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। তাদের চত্রছায়া আর ইন্ধনে পার্শ¦বর্তী ছোট বড় রাষ্ট্রগুলো নানাভাবে প্ররোচিত হচ্ছে। জোর জবরদস্তি রাজনৈতিক কালচার দুনিয়াব্যাপী বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। রাজনীতি ছিল রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রতিষ্টান। এ প্রতিষ্টান সারা দুনিয়ায় এখন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশ জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা মানবাধিকার উদ্দেশ্য  রাজনীতিতে থাকলেও বাস্তবে এখন জনগণ নেতাদের মাধ্যমে সে সেবা পাচ্ছে না। এ চিত্র কম বেশী সব দেশেই  বিরাজমান। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন হয়েছে। নাগরিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার নিমিত্তেই বাংলাদেশের অভ্যুদয়। স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধ শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশ পৌছতে যাচ্ছে। এ সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যাপক হানাহানি বিশৃঙ্খলা জাতি দেখেছে। অনেক রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা গ্রহণ আর হাজারো দুর্নীতির সমারোহ পর্যবেক্ষণ করেছে। একদল অপর দলের উপর কিভাবে দমন নিপীড়ন সেটাও দেখেছে। জনগণের আমানত রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাত করার মাধ্যমে নেতাদের সম্পদের পাহাড়ও দেখেছে। ক্ষমতার অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে রাজনীতিকে  হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখছে। স্বাধীনতার পর দেশ যে পরিমাণ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষায় অগ্রগতি অর্জন করেছে, এর চেয়ে কয়েক হাজার গুণ রাজনৈতিক দুর্নীতি দেখেছে জনগণ। রাজনীতির দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অর্থ আত্মসাত এদেশের রাজনীতিতে একটি চলমান চরিত্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একটি পদ পদবী ভাগ্যে জুটলেই সেটা তার জন্য আলাদিনের চেরাগ। এ চেরাগ পাওয়া অর্থই হলো অঢেলভাবে অর্থ উপার্জনের একটি চেয়ার। ডান, বাম জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধ যে নামেই দলের গঠনতন্ত্রে ব্যবহার হোক না কেনো, সব দলের রাজনীতি আর নেতার মধ্যে পাওয়া গেছে সাগর চুরির মতো অর্থ কেলেঙ্কারি। শুধু নেতা নয়, রাজনৈতিক দলের চত্রছায়ায় রাষ্ট্রীয় সেক্টরে যাদের নিয়োগ হয়েছে, সেখানেও হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হতে দেখা যায়। প্রজাতন্ত্রের এসব  কর্মচারি একটা সরকারি চাকরীর বদৌলতে অঢেল  অর্থের মালিক হতে বেশি সময় লাগে না।র্  ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার অথবা চেয়ারম্যান সেও রাজনৈতিক  চত্রছায়ায় দুর্নীতির অর্থে পাহাড় গড়তে এদেশে সম্ভব। এসব কালচার রাজনৈতিক চরিত্র দেশ ছেয়ে গেছে। রাজনীতি আর নেতাদের দুরবৃত্তায়নে সাধারণ জনগণ অতিষ্ট। স্বল্প সংখ্যক এসব মানুষ দেশের আমজনগণের উপর জুলুমের স্টিম রোলার চালিয়ে আসছে। অবৈধ রাজনৈতিক ক্যাডারদের দৌরাত্ম আর এক শ্রেণীর প্রশাসনিক কর্তাদের যোগসাজশে সমাজ ও জনগণ অস্থিরতার মধ্যে আছে বলা যায়। ঠিক এ মুহুর্তে এসব  কালচার যখন দেশ ছেয়ে গেছে তখন, এদেশের জনগণের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা  সাহসী নেত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির নামে দুবৃত্তদের লাগাম ধরা শুরু করলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছেন, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতির  সুফল নস্যাৎ ও ধুলিস্যাৎ করছে কতিপয় দলের দুর্বৃত্ত। আসলে  ওরা রাজনীতির নামে সেবা করার জন্য আসে নি। তারা এসেছে, দলে প্রবেশ করেছে অর্থের পাহাড় গড়ার জন্য। দেশ ও জনগণের অর্থ লুটপাট করে দেশে বিদেশে পাচার করে জাতীয় অর্থনীতি ও জনগণকে ফুতুর করার জন্য। এ চরিত্র স্বাধীনতার পর হতে অদ্যাবধি এদেশের রাজনীতিতে দল ও দেশে প্রচলিত আছে। এ সংস্কৃতি থেকে জনগণ চিরদিনের জন্য মুক্তি ও নিস্তার চায়। আর এখন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা অত্যান্ত নিষ্টা সততা ও সাহসীকতার মাধ্যমে এসব রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ থেকে দেশ জাতিকে রক্ষা করার সংকল্প ও বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এটা যেন সব দল ও নেতাদের মধ্যে জনগণ দেখতে পায়। এ কর্মসূচীতে জনগণ স্বস্তির নিশ্বাস নিতে দেখা যাচ্ছে। দেশ যেভাবে উন্নয়ন অগ্রগতিতে সফলতায় এগুচ্ছে, পক্ষান্তরে দূর্নীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক দুর্নীতি দেশ হতে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। দেশ ও জনগণের লুট হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চায় জনগণ। রাজনৈতিক দল ও নেতার মধ্যে শুদ্ধি অভিযান সব দলের মধ্যে অব্যাহত থাকুক।

লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক

 

Ads