সমাজের ভাইরাস
০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:২১ পিএম
বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন বলে আমরা সৃষ্টির সেরা জীব। সেরা জীবের স্বীকৃতি পেয়ে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের খেলায় আমরা নিত্যদিন মেতে থাকি। পশুরা বনেজঙ্গলে গৃহহীনভাবে আর আমরা পৃথিবীর সুন্দর আবাসনে বাস করছি। জলবায়ুর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পাচ্ছি। নিজেদের আরাম আয়েশের জন্য অন্যসব জীবকে কাজে লাগাচ্ছি। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করছি। সংক্ষিপ্ত জীবনকালকে চিরস্মরণীয় করে এজগতে অমর হতে দিনরাত খেটে মরছি।
তবু মানুষে মানুষে বিস্তর তফাৎ। কোন কোন মানুষ সারাজীবন সৃষ্টির কল্যাণে কাজ করেন। ধ্যান করেন। তাঁরা অর্থ-সম্পদকেই জীবনের সাফল্য মনে করেন না। মানুষের কোনরূপ অকল্যাণ হতে পারে এহেন কাজে কখন সম্পৃক্ত হন না। এমন কি জেনেশুনে অকারণে গাছের একটি পাতাও ছিঁড়েন না।
প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই মানুষ।
আবার গঠনগত দিক দিয়ে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য পেয়ে কেউ কেউ ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করে। এরা জীবনের একমাত্র সাফল্য হিসেবে অর্থ সম্পদকেই জানে। অর্থের পিছনে ছুটতে গিয়ে সৃষ্টির কল্যাণ-অকল্যাণের কথা এদের মাথায় আসে না। নিজের লাভের জন্য এরা সবই করতে পারে। স্বার্থ হাসিলের জন্য শুধু জীব নয়; স্বজাতিকে পর্যন্ত দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতেও এদের বুক কাঁপে না। কৃতকর্মের জন্য এরাই মানুষের খোলসে অমানুষ।
বনের পশুরাও সুশৃঙ্খল জীবন চায়। এদের মানুষের মতো উন্নত মস্তিষ্ক না থাকলেও এরা সহজে হিংস্রতা দেখায় না। কেবল আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক আচরণ করে থাকে। অথচ মানুষ নামের অমানুষেরা দিনের আলোয় মানুষের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, ধর্ষণ, গুম ও হত্যার মতো মানবতা বিরোধী নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হচ্ছে। মানবতার মৃত্যু ঘটিয়ে আমাদের বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। এরাই আমাদের সমাজের ভাইরাস। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সমাজকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন করে গঠন করতে হবে। এইসব ভাইরাসকে সমাজের বুক থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী গড়া, যেখানে আমাদের আগামী প্রজন্ম হেসেখেলে বড় হবে।































