হত্যাকান্ডে জড়িত ১৪ জন আসামিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৪ পিএম


হত্যাকান্ডে জড়িত ১৪ জন আসামিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

হত্যাকান্ডে জড়িত ১৪ জন আসামিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

বহুল আলোচিত কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার সাহারবিল এলাকায় নির্বাচন পরবর্তীতে সহিংসতার ঘটনায় মোহাম্মদ হোসেন নামক এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও গুলিবর্ষনকারীসহ এজহারনামীয় ও হত্যাকান্ডে জড়িত ১৪ জন আসামিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), এলিট র্ফোস হিসেবে অত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে র‌্যাবের জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

গত ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রামপুরা চিংড়িঘের এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোহাম্মদ হোসেন নামক একজন চিংড়ি চাষি গুলিবৃদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৮/১৮, তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৪। নৃশংস এই হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়। র‌্যাব উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজদারী বৃদ্ধি করে। 

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের মূলপরিকল্পনাকারী ১। শহিদুল ইসলাম লিটন (৪০), পিতা-শামছু মিয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার, ২। নেতৃত্ব প্রদানকারী ও গুলিবর্ষণকারী মোঃ সোহেল (৩৮), পিতা-ইদ্রিছ আহমদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৩। পরিকল্পনাকারী জয়নাল আবেদীন (৫২), পিতা- মৃত সৈয়দ আহমদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৪। আবু জাফর (৪৫), পিতা- কালা মিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, ৫। আজগর আলী (৪৫), পিতা- নুরুল ইসলাম, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৬। আবুল হোসেন পাখী (৩৫), পিতা- মৃত আব্দুল হামিদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৭। নাজমুল হোসাইন রকি (৩৫), পিতা-নুরুল হোসেন বাঙালী, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৮। আবদুর রহিম, পিতা-মৃত জহির আহমেদ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ৯। মোঃ শাহিন (৩৫), পিতা-বলাইয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, ১০। মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন (৫০), পিতা-মোস্তাফিজুর রহমান, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম, ১১। প্রদীপ কুমার শীল (৪২), পিতাঃ অনন্ত কুমার, মহেশখালী, কক্সবাজার, ১২। মোঃ রিদুয়ান (৩৫), পিতাঃ আবু জাফর, মহেশখালী, কক্সবাজার, ১৩। আবদুল হক (৫০), পিতা-গোলাম হোসেন, মহেশখালী, কক্সবাজার ও ১৪। মোঃ কাইছার (৩৫), পিতা-মোঃ হারুন, চকরিয়া, কক্সবাজারদের’কে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় -------------। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় ‘‘রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি’’ এর সভাপতি হিসেবে গ্রেফতারকৃত জয়নাল আবেদীন এবং সেক্রেটারি হিসেবে শহিদুল ইসলাম লিটন দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সমিতিটিতে প্রায় ৬০০-৭০০ জন্য সদস্য ছিল। সমিতির মালিকানাধীন চিংড়িঘেরের সাহারবিলের রামপুর মৌজায় ৫১১২ একরের বিশাল একটি চিংড়িঘের রয়েছে। এর মধ্যে কিছু চিংড়ি ঘেরে সমিতির নিয়ন্ত্রণ ছিল না। নিয়ন্ত্রণে থাকা চিংড়িঘের দখলে নিতে গত ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যার পর থেকে গ্রেফতারকৃত লিটন এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী চিংড়িঘের এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিতে থাকে। এ সময় তারা সমিতির সদস্যদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় এবং সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে কয়েকশত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন সমিতির সদস্য হিসেবে দীর্ঘ     ০৭ বছর ধরে চিংড়িঘের এলাকার ৪৮ একর জমির মধ্যে খামার ঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন পাশাপাশি চিংড়িঘের পাহাড়ার দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেন সন্ত্রাসীদের কথামতো বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় গ্রেফতারকৃত লিটন ও জয়নাল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

 

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত জয়নাল ও লিটন ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী শুটার সোহেলকে ভাড়া করে। পরবর্তীতে গত ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ সকাল ১১০০ ঘটিকায় গ্রেফতারকৃত আজগর ফোন করে ছলচাতুরীর মাধ্যমে ভিকটি মোহাম্মদ হোসেন’কে চিংড়িঘের এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে সেখান থেকে ভিকটিম হোসেন দুপুরের পর বাড়ি ফিরতে চাইলে গ্রেফতারকৃত জয়নাল ও তার সহযোগীরা রাতে মিটিং আছে জানিয়ে তাকে ফাঁকা জায়গায় নির্মিত ঘরে কৌশলে আটকে রেখে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ গভীর রাতে ভিকটিম মোহাম্মদ হোসেনকে উক্ত চিংড়িঘেরের খালী জমিতে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতারকৃত সোহেল ও তার সহযোগীরা নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। ভিকটিমকে হত্যার পর গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকান্ডের ঘটনাটি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন গ্রæপের কোন্দলে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে নাটক সাজিয়ে অন্য একটি সন্ত্রাসী গ্রæপের উপর দায়ভার চাঁপানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি তারা অপর একটি গ্রæপকে বিবাদী করে থানায় মামলা করতে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যমে হত্যাকান্ডের বিষয়ে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা করে এবং হত্যাকারীর বিচারের জন্য আন্দোলনও করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রকৃত হত্যাকান্ড সম্পর্কে এলাকায় জানাজানি হলে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশিত হলে গ্রেফতারকৃতরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।

 

গ্রেফতারকৃত জয়নাল ও লিটন দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে অবৈধভাবে জমি দখল, হুমকি, মারামারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গ্রেফতারকৃত জয়নালের চকরিয়া থানায় একটি মারামারি মামলা এবং গ্রেফতারকৃত লিটনের নামে চকরিয়া থানায় দস্যুতা, মারামারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণসহ ০৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

 

গ্রেফতারকৃত সোহেল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করতো। তার নামে চকরিয়া থানায় হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মারামারিসহ ০৭টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকত আবুল হোসেন এর নামে চকরিয়া থানায় হত্যা, মারামারিসহ ০৪টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত রহিমের নামে চকরিয়া থানায় একটি মারামারি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত অন্যান্যরা গ্রেফতারকৃত জয়নাল ও লিটনের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল।

 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Ads