অঞ্জনের দত্তের মুখে আইয়ুব বাচ্চুর সেই তুমি...

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৬:৩৩ পিএম


অঞ্জনের দত্তের মুখে আইয়ুব বাচ্চুর সেই তুমি...

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: অঞ্জন দত্ত মানে রঞ্জনা, মাসের প্রথম দিনটা, কাঞ্জন জংঘা কিংবা মেরি এনের মত বিখ্যাত সব গানের স্রষ্ঠা। এমন খবরই গত মাস খানেক ধরেই ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে। ঢাকায় অঞ্জন ভক্তদের জন্য এটা বিরাট খবরই ছিল বটে! ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের সন্ধ্যায় ফার্মগেট কৃষিবীদ ইন্সটিটিউটে গাইলেন আর মুগ্ধ করে চলে গেলেন প্রিয় অঞ্জন।

এর আগেও অঞ্জন ঢাকায় এসেছিলেন বহুবার।কিন্তু এবারের আসাটা বোধ হয় অন্যবারের মত না। একটু ভিন্ন। কারণ তিনি যে প্রথমবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ঢাকার শ্রোতা দর্শকদের মাঝে গাইছেন! বললেন, বাংলাদেশের ভক্ত ও প্রিয়জনের সঙ্গে ভালোবাসার ভাগাভাগি করে নেয়াটা সম্মানের।

সন্ধ্যা থেকেই অঞ্জনের কনসার্ট উপভোগ করতে আসা দর্শকেরা মিষ্টি কণ্ঠে শুনে আসছিলেন ভাই-বোনের ব্যান্ড ‘মহাকাল’-এর সভ্যতা আর সন্ধির গান। তারা একে একে গাইছিলেন তাদের জনপ্রিয় গানগুলো। যেহেতু কনসার্টের নামই ‘লাইভ উইথ অঞ্জন দত্ত’, ফলত প্রায় সবদর্শকই এখানে এসেছেন অঞ্জনের পারফর্ম দেখতে, মহাকালের নয়! কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ সভ্যতা আর সন্ধিতেও মুগ্ধ ছিলেন দর্শক। একটুও বিরক্তির চিহ্ন দেখা মেলেনি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে।

অঞ্জন দত্তের জানালা দিয়ে পৃথিবীটাকেও যখন ছোট দেখায়, তখন হয়তো দর্শক সারিতে বসে অনেকেই তার নিজের মনের জানালা দিয়ে পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়া চেষ্টা করেন। গানের মধ্য দিয়ে অঞ্জন দর্শক শ্রোতাদের কল্পনাকে বিশ্বময় ঘুরে বেড়াতে উস্কে দেন, ঠিক সেসময় ফের গানে গানে বলে উঠেন ‘হ্যালো বাংলাদেশ’! 

বাপকা বেটা বলে কথা। বাবার অসাধারণ দুটি গান গাইলেননীল। সবার উষ্ণ অভ্যর্থনাও পেলেন তিনি। কিন্তু শ্রোতাদের একটু খুঁত যেন কোথাও রয়ে গেল। কয়েকজনতো বলেই ফেললেন, অঞ্জনের গান অঞ্জনের মুখেই শুনতে চাই। একথা কানে গেল অঞ্জনের। 

ফের ভেতর থেকে মঞ্চে আসলেন তিনি। বললেন, আমি কি কবির সুমনের গান গাইবো? তার এমন কথায় উপস্থিত সবাই বলে উঠলেন হ্যাঁ। অবশ্যই গাইবেন। কিন্তু তিনি ফের বলে উঠলেন, মোটেও না। আমি সুমনের গান গাইবো না।কারণ সুমনের গান অঞ্জন কেন গাইবে? দর্শক বুঝলো যে তারা নিজের ফাঁদে নিজেই পড়েছে! কারণ তারা নীলের মুখে অঞ্জনের গান শুনতে চায়নি! আর নিজেদের বোকামি ধরতে পেরে অডিটরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়।  

এরই মাঝে অঞ্জন বলে উঠেন, গান সকলের, সবার গান। আইয়ুবের (আইয়ুব বাচ্চু) গান যেমন আমি গাইতে পারি, আবার আমার গানও আইয়ুব গাইতে পারে। আমার মসজিদে ঢোকার যেমন অধিকার আছে, আপনারও তেমনি মন্দিরে ঢোকার অধিকার আছে।

চিৎকার করে উঠলেন সবাই! কি কারণ এই চিৎকারের? গীটার, ড্রামস এবং আর আর যন্ত্রের কলতানে একটা সুর সবাইকে নস্টালজিক করে দিল, একসঙ্গে হলের সব মানুষ গুনগুনিয়ে উঠলেন। তারপর সেই অস্ফুট স্বর আরো তীব্র হল। তীব্র থেকে তীব্রতর হল। সেই সুরটা যে আর কারো নয়, বাংলাদেশের আরেক জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী ও এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া বিখ্যাত গান ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’।

মিউজিক ইন্স্ট্রুমেন্ট আরহলভর্তি মানুষের সঙ্গে অঞ্জন অস্ফুট স্বরে গেয়ে উঠলেন আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’। যদিও পুরো গানটি গাননি তিনি। কিন্তু একজন ভিনদেশি গুণী শিল্পীর মুখ থেকে নিজের দেশের কিংবদন্তি শিল্পীর গান কিছুটা সময়ের জন্য হলেও এক অদৃশ্য তৃপ্তি দিয়ে যায়।

গানের ফাঁকে আয়োজক রেডভেলভেটকে ধন্যবাদও দিলেন অঞ্জন দত্ত। বললেন, জানেনতো আমাদেরকে ভিসাটিসা দিয়ে অনেক খরচ করে এইসব প্রোগ্রামে আনতে হয়। আর রেডভেলভেট এই সাহসটা করেছেন। তাদেরকে ধন্যবাদ। তারচেয়ে ধন্যবাদ বেশি আপনাদের, যারানিজের এতো টাকা পয়সা খরচ করে আমার মত একটা বুড়োর গান শুনতে এসেছেন, গত চব্বিশ বছর ধরে শুনছেন।এরজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, এই বলে একেবারে দর্শদের উদ্দেশে একেবারে মাথা নুয়ে দিলেন অঞ্জন!

Ads