‘খুফিয়া’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক

০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:১৯ পিএম


‘খুফিয়া’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বাঁধন

ছবি- সংগৃহীত।

 

বাংলাদেশি শোবিজের হঠাৎ জ্বলে ওঠা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ‘চ্যানেল আই লাক্সতারকা খ্যাত’ এই অভিনেত্রী নিজের অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ছোটপর্দা, বড়পর্দা মিলিয়ে প্রায় সব অঙ্গনে দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানা টানাপড়েনের কারণে শোবিজ থেকে দূরে ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন নিজেকে বিকশিত করলেন নতুন এক রূপে, অন্য ভাবে। প্রথম চমকটা দেখালেন ‘রেহানা মরিয়ম নুর’র মাধ্যমে। সেই প্রশংসা বা জনপ্রিয়তার সূত্রে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাম লিখিয়েছেন বলিউডেও।

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে চলতি সপ্তাহে (৫ অক্টোবর) ওটিটি প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে বাঁধনের প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘খুফিয়া’। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ। যেখানে অভিনেত্রী টাবু, আশীষ বিদ্যার্থী ও আলি ফজলের মতো নামকরা বলিউড তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন বাঁধন। এতে একজন বাংলাদেশির ভূমিকায় বাঁধন অভিনয় করেছেন। গত ৫ অক্টোবর অনলাইট প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সিনেমাটি অবমুক্ত হওয়ার পর থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত মাসে প্রকাশ হয় এই সিনেমার ট্রেলার। ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যরে সেই ট্রেলারে একাধিকবার দেখা গেছে বাঁধনকে। যেখানে তার লুক নজর কাড়েন ভক্তদের। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এবং অমর ভূষণের জনপ্রিয় গুপ্তচর উপন্যাস ‘এস্কেপ টু নোহোয়ার’ এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ‘খুফিয়া’। অবশ্য নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ জানিয়েছিলেন, এটি একটি অত্যাধুনিক অ্যাকশন স্পাই থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। ভারতীয় চলচ্চিত্রে এই মানের থ্রিলার ফিল্ম খুব একটা হয়নি। 

 

‘খুফিয়া’য় বাঁধনের চরিত্র ছোট্ট হলেও সিনেমাটি মুক্তির পর অভিনেত্রী হিসেবে বাঁধন বাংলাদেশি নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন। অনেকেই আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও করছেন। যে বাঁধন রেহেনা মারিয়াম নুর’-এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আন্তর্জাতিক অভিনেত্রী হিসেবে তকমা পেয়েছিলেন। এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছিলেন। কান উৎসবের লালগালিচায় সমালোচিত পোশাকে হেঁটেছিলেন। সেই বাঁধন যেন নিজের ক্যারিয়ারকে অনেকটাই ম্লান করলেন। অথচ সিনেমাটি নেটিজেনদের কেউ কেউ বলছেন কী অসাধারণ অভিনয় করেছে এই সিনেমায়। বিশেষ করে বলিউড অভিনেত্রী টাবু’র সঙ্গে একেবারে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করেছেন যেন। কেউ কেউ তো এও বলে ফেলেছেন ওর এই সাবলীল অভিনয় দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর ভাষ্য, খুব ছোট একটা ক্যারেক্টার করেছি আমি। তবে এটা বলে রাখি, আমি ‘খুফিয়া’য় বাংলাদেশি এক মেয়ের চরিত্র করেছি। এ জন্যই তারা বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী খুঁজেছেন এবং নিয়েছেন। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

 

বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘খুফিয়া’র মুখ্য চরিত্রের শিল্পী বলিউড তারকা টাবুর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন বাঁধন। বলিউডের সিনেমায় এজেন্ট নিয়ে গল্প এখন পান্তাভাতের মতো অবস্থা। সেই একই পাকিস্তান-ভারতের ঘুরপাক। কিন্তু ‘খুফিয়া’য় এমনটা হলো না। বিশাল ভরদ্বাজ বলেছেন অন্য এক গল্প, ভিন্ন এক আঙ্গিকে। ‘খুফিয়া’ শুরু হয় বাঁধনের চমক দিয়ে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটিতে এমন অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে যার পরতে পরতে মিলছে উত্তর। তবে এও বলা যায় গল্পের মূল জায়গায় রয়েছেন বাঁধন। যাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় ঘটনার অনেক শেকড়। ঘটনার প্রেক্ষাপটে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের এক মেয়ের চরিত্রে গল্পের শুরুটা হয় তাকে দিয়ে। প্রথম দিকে বেশ কিছুক্ষণ দেখা মেলে এই তারকার। এ ছাড়া পুরো সিনেমায় বিভিন্ন অংশে রয়েছেন বাঁধন। স্বাভাবিকভাবে বলিউডের সিনেমায় টাবুর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটা চ্যালেঞ্জটা ছিল অনেক। সেই জায়গায় হয়তো উতরে গেছেন বাঁধন। প্রতিটি দৃশ্যে স্বাভাবিক বাঁধনকে দেখা গেছে। বাড়তি কোনো এক্সপ্রেশন, অতিরিক্ত কিছু করতে যাওয়ার চেষ্টা চোখে পড়েনি। আর চরিত্রটির প্রতি তার আত্মবিশ্বাস প্রশংসা করার মতো।

 

সার্বিকভাবে সিনেমাটি প্রশংসিত হলেও এতে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন বলিউড নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ। বিশেষ করে সিনেমায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে ছোট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এটা বাংলদেশে দর্শকরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। সিনেমায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হয়েছেন স্বয়ং বাঁধন। সিনেমায় তার অভিনয়ের ব্যপ্তি কম হলেও তার চরিত্রে তিনি ছিলেন সাবলীল। নিজের দেশকে ছোট করা সিনেমায় তিনি কীভাবে অভিনয় করলেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায় এর আগে এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জয়া আহসান এবং মিথিলার কথা শোনা গিয়েছিল। পরে অবশ্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মেহজাবীন চৌধুরীকে। কিন্তু সিনেমায় বাংলাদেশ বিরোধী বিষয় থাকায় দেশকে ছোট করা হবে বলে মেহজাবীন চৌধুরী সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর প্রস্তাব যায় বিদ্যা সিনহা মিমের কাছে। তিনিও একই কারণে প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন। সেই চরিত্রটি লুফে নিয়েছেন বাঁধন। নানা কারণে শোবিজ থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা ‘রেহেনা মারিয়াম নুর’-এর ফের আলোচনায় আসা বাঁধন এই সিনেমায় কাজ করেন। বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হবে জেনেও সিনেমায় কাজ করেন তিনি। অনেকেই বলছেন নিজের দেশের সম্মানের চেয়ে নিজের ক্যারিয়ারকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বাঁধন। বলিউডের এই সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বাঁধন।

 

সিনেমায় শুধু দেশকে ছোট করা নয় সমকামী চরিত্রের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন বাঁধন। গোয়েন্দা থ্রিলার এই সিনেমায় বাঁধনের চরিত্রের নাম অক্টোপাস ওরফে হিনা। যে কিনা দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত থাকে। সিনেমায় তাকে সমকামী হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। বিষয়টিও নেটিজেনদের ক্ষুব্ধ করেছেন। তবে আদতে যতই সমালোচনা হোক বলিউডে বাঁধনের এই প্রশংসনীয় অভিষেকের পর আশা করা হচ্ছে মুম্বাইয়ের ইন্ডাস্ট্রিতে হয়তো আরও দেখা যাবে এই তারকাকে। আর বাঁধন ভক্তদের জন্য সেটিই যেন এখন নতুন এক অপেক্ষা। 

Ads