ইবি জিয়া হলের কর্মকর্তাকে মেরে মেডিকেলে পাঠাল ‘ডে লেবার’ কর্মচারী
০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক শাখা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ডে লেবার কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী হলেন— মো. আসলাম এবং অভিযুক্ত ওই হলের ডে লেবার কর্মচারী মো. আলম।
আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে জিয়া হল ডাইনিং প্রাঙ্গনে কথা কাটাকাটি থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. আসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়। পরে চিকিৎসা নিয়ে তার বাসায় অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ঈদ ও গ্রীষ্মের ছুটিতে জিয়া হল ডাইনিং-এর সংস্কার কাজ চলছে। কাজ ‘অপছন্দ’ মনে হওয়ায় ডে লেবার মো. আলম শাখা কর্মকর্তা মো. আসলামকে জেরা করতে থাকে। কর্মকর্তা মো. আসলাম কর্মচারী আলমকে ‘তোমাকে কেন জবাবদিহি করব’ বললে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তারপর পিছন থেকে এসে প্রথমে আসলামকে চড় মারে। একপর্যায়ে দুইজনই মারামারিতে (কিল-ঘুষি) জড়ায়। এতে সঙ্গে থাকা আরেক ডে লেবার মো. আব্দুল কাদেরও আহত হয়।
শাখা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লোকাল পাওয়ার দেখিয়ে আসছিলেন মো. আলম। প্রভোস্টের উপরেও মাঝেমধ্যে কথা বলে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে। হলের সিট বরাদ্দের সময়ও তার প্রভাব থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। মো. আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিজের পছন্দ না হলেই সকল কাজে ভেটো দেয় তিনি।
ভুক্তভোগী হল শাখা কর্মকর্তা মো. আসলাম বলেন, “হল বন্ধের আগে থেকে সংস্কার কাজ চলছে। এখনও চলমান। ডাইনিং-এর ভিতর সংস্কারমূলক কাজ পছন্দ না হওয়ায় আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিল, তখন আমি বললাম— ‘এই কাজ তো প্রকৌশলী দপ্তর থেকে করানো হয়েছে, প্রভোস্ট স্যার ভালো জানবেন।’ শোনার সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে দৌঁড়ে এসে ঘুষি মারে। পাশে কাদেরও (হলের আরেক ডে লেবার) ছিল। আমি হাসপাতালে আছি, ভালো করে কথা বলতে পারছি না। একজন ডে লেবারের সাহসিকতা দেখে হতভম্ব ও মার খেয়ে লজ্জা পাচ্ছি।”
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডে লেবার মো. আলম বলেন, “হল ডাইনিং এ সংস্কার কাজ চলছিল, ওই সময় পরামর্শ দিচ্ছিলাম -এটা এভাবে করলে সুন্দর দেখায়। একপার্যায় ওনি ‘বান্দিরপুত’ বলে চড় মারে, আমিও মারি। আমাকে সে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকিও দেয়। পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।”
হলটির প্রভোস্ট বর্তমান ছুটিতে রয়েছেন। হাউস টিউটর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম। তিনি জানান, “সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর একজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে (১৩ জুন) হল প্রভোস্ট সহ উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করবে।”
ইবি মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “একজন কর্মকর্তা আসলো, মুখে সামান্য জখম ছিল, রক্ত জমাট বেঁধেছিল তাই ব্যান্ডেজ করে পাঠানো হয়েছে। মুখের ক্ষত তাই এক্সরে না করলে এবিষয়ে বলা কঠিন। এছাড়া আর বড় কোন সমস্যা দেখা যায়নি।”
























