শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদলের সহিংসতার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ এএম
শিক্ষাঙ্গনসহ দেশব্যাপী ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালানি ও গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জন দুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় নামক স্থান হতে একটি বিক্ষোভ আরম্ভ হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধানফটকে সমবেত হয়। এ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসাইন, অফিস সম্পাদক হাসিবুর রহমান-সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা 'সিটি কলেজে হামলা কেন?তারেক সরকার জবাব দে', 'আমরা ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব দে', 'রামদাদলের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না', 'সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না', 'সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার', 'জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার', 'শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চলবেনা চলবে না', 'শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না', 'শিক্ষা রামদাদল একসাথে চলে না', 'পাম্প আছে, তেল নেই। খাম্বা আছে, রেন্ট নেই', 'যে হবি স্বৈরাচার, তাকে বলবো বাংলা ছাড়', 'যদি হও স্বৈরাচার, জুলাই ফিরবে বারবার' এসব স্লোগান দেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, 'চট্টগ্রামের সিটি কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে আসা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপরে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। শুধুমাত্র তাই নয়, ছাত্রশিবির যখন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়েছে, সেখানে ছাত্রশিবিরের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা রেহাই পায় নাই। ছাত্রশিবির যখন গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে, ছাত্রলীগ আগে যেটা করতো, হাসিনা আগে যেটা করতো, তাদের খুনি ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপরে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে মারা হত, ছাত্রশিবিরকে মারা হত। এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে শিবিরের উপরে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর জন্য। ছাত্রশিবিরকে মারা জায়েজ ছিল। সেই একই কাজ শুরু করেছে তারেক ও তার বাহিনী।'
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে একটি দল এই দেশকে তাদের নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে, যেখানে-সেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুন্ডামি, মাস্তানির ছয়লাব ছড়িয়ে দিয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অসংখ্য ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি তাদের নিজেদের দলের অসংখ্য কর্মীকে পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অসংখ্য মা-বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের মধ্যে তেজগাঁও কলেজে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য, মাদক ব্যবসা নিয়ে মারামারি করতে যেয়ে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করতে যেয়ে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে বলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার দেখতে পাই নাই। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের একজন সন্ত্রাসীকে পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় নাই।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্যে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইয়ের গোড়ালিকে আঘাত করে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই সন্ত্রাস আমরা আর সহ্য করবো না। ছাত্রশিবিরের জন্ম হয়েছে স্বৈরাচারের কবর রচনা করার জন্য। সাবধান হয়ে না যান, প্রতিটি সন্ত্রাসীর পিঠের চামড়া আমরা তুলে নিতে বাধ্য হবো। এখনো সময় আছে, সতর্ক হয়ে যান। তা না হলে এ দেশের শিক্ষার্থী, জুলাই আন্দোলনের শক্তি, জুলাই যোদ্ধারা আপনাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।
























