প্রিয় স্বাধীনতা; গেঁধে রাখবো তোমায় রক্তের প্রতিটি কণায়
২৬ মার্চ ২০১৭, ০৫:১৫ পিএম
শৃঙ্খলিত বাঙালির মুক্তির দিন এই ২৬শে মার্চ। বিশ্বের বুকে গাঢ় লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর যোগ্য সময় ছিল এ দিন। এ দিন সারা বিশ্ব মাথা উঁচিয়ে তাকিয়ে দেখছিল বাঙালীর বিজয়। শয়তানের দুসরদের হটিয়ে সে দিনের প্রতিটি মূহুর্তকে নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলার মানুষ এবং এ বাঙালির মুক্তির পূর্ণাঙ্গতা লাভ পায় ১৯৭১ সালের সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার মাধ্যমে। সে স্বার্থকতায় আজ বাংলার মানুষ ২৬শে মার্চ কে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নের্তৃতে দীর্ঘ নয় মাস মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তাদের সেনাদের লেলিয়ে দিয়ে বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে।
সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের সাহায্যে দেশে-বিদেশে প্রতিটি প্রান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জাতির নেতার যেমন নির্দেশ তেমনি হানাদার বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পরেছিল বাঙালী জনতা।
পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় রক্তে রাঙিয়ে আত্মত্যাগের তুলনাহীন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে একাত্তরের এই দিনে বীর বাঙালী। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন ছিল তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহঙ্কারের দিন এই ২৬শে মার্চ। সেই ভয়াল কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, অগনিত প্রিয়জনের লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের এই ২৬ মার্র্চে। আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। প্রতিরোধের আগুনে প্রজ্জ্বলিত সারা বাঙলার মানুষ। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান তুলে ট্যাঙ্কের সামনে ঝাঁপিয়ে পরছে সাহসী বুক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি।
উল্লেখ্য যে, ৭ই মার্চে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন।
প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনা, মা-বোনের ইজ্জ্বত লুন্ঠন ও অনেক ত্যাগের পর প্রিয় স্বাধীনতাকে আমরা পেয়েছি। আজ এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বস্তরের সকলের নিজের অবস্থান থেকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। চক্রান্তকারীরা আজো বসে নেই, তারা দিন রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশে কঠিন অরাজকতা সৃষ্টি করতে। তারই প্রমাণ মেলে এই কয়েকদিনে ধারাবাহিক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি হামলা। এই জঙ্গি হামলা একক কারোর নির্দেশে চলছে মনে হয় না। আন্তদেশীয় জঙ্গি ছাড়াও স্বার্থনেশি কিছু রাষ্ট্রের চক্রান্ত থাকতে পারে এমন ধারনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যার কারনে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নিজের দল, বিরোধী দল- এই সব দলা দলির বিদ্বেষ ভুলে যারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন তাদের কথা স্বরণে রেখে আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলি ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন তারা। স্বার্থপরের মত একাকী ভাল থেকে লাভ নেই সামগ্রীকভাবে দেশের প্রতিটি মানুষকে ভাল রাখার স্বার্থকতায় শ্রেয়। নিজের চেয়ে দেশকে ভালবাসি সে প্রত্যয় গেঁথে রাখার মত বুকের পাতা প্রয়োজন সেটি আপনার থেকে লালন হোক প্রত্যাশা বাংলা মায়ের; যার বুকে-পিঠে আজ আমরা বাঙালী, বাংলাদেশী।
লেখক: অয়ন আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক, সাপ্তাহিক প্রতিদিনের চিত্র।





























