বিএনপির সরকারের মেগা বাজেট

বড় স্বপ্ন, বিপুল ছাড়: সফলতার চাবিকাঠি এখন বাস্তবায়নে

অয়ন আহমেদ

১২ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম


বড় স্বপ্ন, বিপুল ছাড়: সফলতার চাবিকাঠি এখন বাস্তবায়নে

 

দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষের বড় প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপর বেলা পৌনে তিনটার দিকে অর্থ বিলে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পরবর্তীতে বিকাল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে অর্থমন্ত্রী ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

সব পক্ষকে খুশি করতে করের ক্ষেত্রে বিপুল ছাড় দেওয়া হলেও, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মেগা বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাট সংশয় ও অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।

ইতিহাসের দীর্ঘতম বাজেট বক্তৃতা
অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন। আর প্রথমবারেই তিনি গড়লেন এক অনন্য ইতিহাস। বাজেট উপস্থাপনে তিনি বিরতিহীনভাবে সময় নেন পৌনে চার ঘণ্টা। মাঝখানে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতিসহ পুরো বাজেট বক্তৃতার মোট সময় ছিল পাঁচ ঘণ্টা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে অর্থমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্য শেষ হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘতম বাজেট বক্তৃতা।

আন্তর্জাতিকভাবে, ১৮৫৩ সালে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইউয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের দীর্ঘতম বিরতিহীন বাজেট বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তার আগের বছর বেঞ্জামিন ডিজরেইলি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বক্তৃতা দিলেও মাঝখানে বিরতি নিয়েছিলেন। সেই বিচারে মাঝখানের বিরতিসহ পাঁচ ঘণ্টার বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও এবার ইতিহাসে স্থান করে নিলেন।

উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ও ১০ অগ্রাধিকার
বাজেটে নতুন অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) সাড়ে ৬ শতাংশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক দূরগামী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ২.৭ শতাংশে উন্নীত করা, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১১ শতাংশ ও কর-জিডিপি অনুপাত ৯.৬ শতাংশ করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার লক্ষ্য রয়েছে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার মেগা-স্বপ্ন দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো:

⚪ সবার জন্য উন্নয়ন এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

⚪ সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা প্রদান।

⚪ বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি তৈরি।

মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি এবং সুনীল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে জাতীয় অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

আয়ের লক্ষ্য ও ঘাটতির বিশাল অঙ্ক:
প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদানসহ সরকারের মোট আয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকাই হচ্ছে রাজস্ব আয়। সরকারের মোট আয়ের ৮৬.১ শতাংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর রাজস্ব থেকে এবং করবহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ৯.৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের সাফল্য পুরোপুরি নির্ভর করছে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্য অর্জনের ওপর।

অন্যদিকে, সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা (মোট ব্যয়ের ৬৪.৬%) চলে যাবে পরিচালন বা চলতি ব্যয়ে। এর বিপরীতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ style="font-weight: normal;" হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ৩৩.৭ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার প্রতি ১০০ টাকা খরচের মধ্যে প্রায় ৬৫ টাকাই চলে যাবে চলতি সাধারণ ব্যয়ে এবং মাত্র ৩৪ টাকা ব্যয় হবে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।

সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, সরকারের মোট পরিচালনা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে ঋণের সুদ। আগামী অর্থবছরে সরকারকে শুধু আগের ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেট ব্যয়ের ১৩.৬ শতাংশ।

ফলে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫.৯ শতাংশ। সহজ ভাষায়, সরকার প্রতি ১০০ টাকা খরচ করলে নিজের পকেট থেকে আয় করবে ৭৪ টাকা, আর বাকি ২৬ টাকা মেটাতে হবে ধার-দেনা বা ঋণ নিয়ে।

বৈদেশিক ঋণের ওপর ৯০% নির্ভরতা বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের ঝুঁকি:
এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উভয় উৎসের ওপরই নির্ভর করতে হবে। মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৪৬.৪ শতাংশ আসবে বিদেশি ঋণ থেকে এবং ৫৩.৬ শতাংশ আসবে অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে।

সরকার আগামী অর্থবছরে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অথচ বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী সরকার বৈদেশিক ঋণ পাচ্ছে মাত্র ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়াতে হবে, যা মূলত নির্ভর করছে অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর।

পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তর থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই (অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৮৮ শতাংশ) নেওয়া হবে দেশের ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে, যার মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের অবদান থাকবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাত এমনিতেই চরম দুরবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সরকার যদি ব্যাংক থেকে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাত চরমভাবে ঋণবঞ্চিত হবে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও কমবে, নতুন কর্মসংস্থান হবে না এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও করের আওতা বাড়ানোর কৌশল:
টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নানা অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবারের বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা আরও বেশি রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের একটি অগ্রিম আয়কর-কাঠামো ও রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। এর ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা সহজে তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।

বাজারের চাপ কমাতে চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, তেল ও চিনিসহ ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। তবে কর কমানোর এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে নাকি মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের পকেটস্থ হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই যায়। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, দেশে কর কমলেও পণ্যের দাম সহজে কমে না।

করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে খুচরা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট হারে কর দিতে পারবেন, তাদের ভ্যাটের খাতা সংরক্ষণ বা রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা থাকবে না; ব্যাংক বা এমএফএস (বিকাশ/রকেট)-এর মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের করের আওতায় আনতে পণ্য সরবরাহের সময় ০.২০ শতাংশ (হাজারে ২ টাকা) অগ্রিম কর কেটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কর ফাঁকি রোধে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের জন্য বিন (BIN) নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন (TIN) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, ইউটিলিটি সেবা ও সম্পত্তির তথ্যকে একটি সমন্বিত ডেটাবেজে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের জন্য উপহার ও সবুজ অর্থনীতিতে বিপ্লব:
ডিজিটাল ও আধুনিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে তরুণদের জন্য বাজেটে বড় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশাল করসুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে, ফেসবুক-ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং স্টার্টআপদের টার্নওভার ট্যাক্স করা হয়েছে শূন্য। এছাড়া ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও আইটি খাতকে চাঙ্গা করবে।

সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে। বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে এবং ইভি চার্জার আমদানিতে বিপুল কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর ‘শূন্য করহার’ বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিদিনের চিত্র বিডির মন্তব্য: কল্পনা যেন বাস্তবে রুপান্তর হয়, উল্টো যেন রাবণের মতো না হয়:
বাজেটের অঙ্ক বা স্বপ্নের আকার যত বড়ই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের কাছে তার চেয়ে বড় প্রয়োজন বর্তমানের অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি ও বাজারে স্বস্তি। দেশের মানুষ এখন আর দীর্ঘ বক্তৃতার মায়াজাল বা মোহিনী মায়ায় ভুলতে রাজি নন। তারা চান বাস্তব কাজ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ভাষায় বলা যায়:

‘এবার ফিরাও মোরে, লয়ে যাও সংসারের তীরে
হে কল্পনে, রঙ্গময়ী! দুলায়ো না সমীরে সমীরে
তরঙ্গে তরঙ্গে আর, ভুলায়ো না মোহিনী মায়ায়।’

১৯ শতকের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও তাঁর ‘বাক্য অপেক্ষা কার্য্য ভাল’ কবিতায় লিখেছিলেন:
‘কাজে যদি করা হয় করো তবে ভাই,
মিছামিছি মুখে বলে কোনো ফল নাই।’

নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করা এবং দক্ষতার সঙ্গে তা ব্যয় করা। কর ছাড়ের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো এবং ব্যাংক খাতকে রক্ষা করে বৈদেশিক ঋণ নিশ্চিত করা। অর্থমন্ত্রীর এই পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ও মহাপরিকল্পনার মহাকর্মযজ্ঞ যেন কেবলই কথার কথা না হয়। লেখাটি শেষ করছি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সেই কবিতারই শেষ দুই পঙ্‌ক্তি দিয়ে—

‘অতএব কর ভাই সাধ্য হয় যত,
কল্পনা না হয় যেন রাবণের মত।’
 

Ads