পলাশে সূর্য্যমুখীর সৌন্দর্যে বিমোহিত দর্শনার্থীরা, মালিকের বাড়তি আয়ের আশা
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০৬ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলেই কি এ ফুলের নাম সূর্যমুখী। সূর্য যেদিকে যায়, ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকেই মুখ করে সূর্যমুখী। সত্যিই এ রহস্যটি অনেক ভাবিয়ে তুলে। তবে যা-ই হোক, দৃষ্টিনন্দন এ ফুল যেন সবাইকে তার কাছে টানে। সূর্যমুখী যেখানেই ফুটুক না কেন, সেখানকার সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এজন্যই তো সূর্যমুখী বাগান দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
এখন সূর্যমুখী ফুলের মৌসুম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাষ হয়েছে সূর্যমুখী। ভালো ফলনে কৃষকদের মুখেও ফুটছে হাসি। এখন অনেকেই বীজ আহরণের পাশাপাশি বাগান দেখতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে গেট মানিতে অধিক লাভের আশা করছেন। সে জন্য সূর্য্যমুখী বাগানকে চারিদিক বাঁশ দিয়ে আটকিয়ে নান্দনিক গেইট স্থাপন করে দিচ্ছেন। যাতে দর্শনার্থীরা টিকেট কেটে ভেতরে যেতে হয়। সূর্যমুখী বাগান মানেই তো গ্রামীণ পরিবেশে এক অরূপের অনন্য মনোহর চিত্র।
এমনি একটি বিনোদন কেন্দ্রিক সূর্যমুখী বাগান আবাদ করেছেন একজন সৌখিন কৃষিবিদ নরসিংদীর চরসিন্দুর ইউনিয়ানের শীতলক্ষার চরে। গ্রামীণ পরিবেশে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক শীতলক্ষা ব্রীজের পার্শ্বে। প্রস্ফুটিত ফুল ও কলির শোভাসিত সমারোহে হলুদ রঙয়ের বসন্ত উৎসব ছড়িয়েছে বাগান জুড়ে। প্রতিদিন বিকেলে পুস্প প্রেমিকরা দলে দলে ছুটে আসছেন এই বাগানে একটু বিনোদন ছুঁয়ে মন ভরে প্রশান্তি নিতে।
এ সুযোগে বাগান মালিকও তৈলবীজ সংগ্রহের পাশাপাশি দর্শণার্থীদের কাছে হাকছে গেটমানি। বাগান মালিক কৃষিবিদ মাজহারুল হক বাগানের চারিদিকে বেষ্টনীতে ঘিরে দিয়েছেন। এখানে তিনি ৫ একর পতিত জমি ভারা নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই বাগান। আবার এই বাগানে নানান চিত্রকর্মে সুন্দর সাজিয়েছেন বাগান ও প্রবেশ পথ। ভ্রমণ পিপাসু ছাত্র যুবক শ্রমিকরা ছুটে আসছেন ঘুড়তে। শত শত দর্শক সেলফি ও বাগানের বিমোহিত ছবি তুলে নিচ্ছেন। বাগান মালিকের আশা এই মৌসুমে বীজ আহরণ ছাড়াও গেটমানিতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা তার বাড়তি আয় হবে।
বাগান দেখতে আসা কালিগঞ্জ প্রাণ আরএফএলের শ্রমিক রহিমুদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে খুবি আনন্দিত এখানে এসে। তিনি বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলেছেন। পাশের দোকান থেকে চটপটি খেয়ে ফিরছেন। পলাশের সেন্ট্রাল কলেজের প্রভাষক মেজবাহ্ স্যার বললেন, এই সুর্য্যমুখী বাগানটি একটি মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠায় শীতকালীন বিনোদন স্পটে পরিনীত হয়েছে। হলুদফুলের সৌন্দর্য আর সৌরভে সবাইকে বিমোহিত করছে।
পলাশ উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবু নাতের এস এ সিদ্দিকী ও স্থানীয় কৃষি পরিদর্শক শাহ্ নেওয়াজ জানান, সূর্য্যমুখী একটি অর্থকরী মৌসুমি ফসল। শীতকালেই এর চাষের উত্তম সময়। রূপে গুণে সূর্য্যমুখী ফুল একটি অতুলিনীয়। সূযমুখী থেকে আহোরিত তৈল স্বাস্থ্যকর, কলস্টোরল মুক্ত থাকায় মানব শরীরে এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনা। বর্তমানে সূর্য্যমুখী চাষ অনেকগুণ বেড়েছে। একিদিকে বাগান যেমন সৌন্দর্যের আকর্ষণ, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন কৃষকগণ।



































