আজ শোকাবহ ১৫-ই আগস্ট, শোকই হোক শক্তি

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৫ আগস্ট ২০২০, ০৪:০৪ পিএম


আজ শোকাবহ ১৫-ই আগস্ট, শোকই হোক শক্তি

ছবি- সংগৃহীত

 

জাতীয় শোক দিবস, শোকাবহ ১৫ -ই আগস্ট বাঙালির শোক ও বেদনার দিন। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৫ আগস্ট ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশি-বিদেশি মদদপুষ্ট এ দেশেরই কিছু দুর্বৃত্তরা।  সেদিন রেহাই পায়নি বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র রাসেল কিংবা পুত্রবধূরাও।ঘনিষ্ঠজনসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনাটি  ছিল জাতির স্বাধীনতার শক্তিকে হত্যার অপচেষ্টা ।বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বের শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশের  স্বাধীনতাকে  হত্যা করতে চেয়েছিল, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এই হত্যার মাধ্যমে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা হয়েছিল কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে আবার মূল ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাঙালি জাতি পিতৃহত্যার বিচার পেয়েছে। জাতির জনক হত্যার রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হলেও এখনো কয়েকজন ঘৃণ্য অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে থাকা ছয় খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। খুনিরা যেসব দেশে পালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া যায়, সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা ও ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোকে সরকার অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা হলো খুনিদের একজনকেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। যেভাবেই হোক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে, এটা দেশবাসীর দাবি।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক, সেরা মুক্তিসংগ্রামী ও সেরা রাষ্ট্রনায়ক। জননন্দিত নেতা হিসেবে তাঁর তুলনা ছিলেন তিনি নিজেই।দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও দায়বোধ তাকে মহীরুহে পরিণত করেছিল। ব্যক্তি শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু।

বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে কারও মতের অমিল থাকতে পারে। কিন্তু কারও জন্য বা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য তাঁর নৃশংস হত্যা-কে সমর্থন জানানো শুধু অমানবিকই নয়, চরম প্রতিহিংসাপরায়ণতার পরিচায়ক হিসাবে গণ্য হইবে  । সব মহলের মনে রাখা উচিত, মানুষের মহত্ত্বকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যরা সব রাজনীতির উর্ধ্বে ।এই দিনটি অস্বীকারের ধৃষ্টতা আর যেন কারও না হয়।

মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত হলে এ দেশ আবার চলে যাবে পাকিস্তানি ভাবধারায়। পাকিস্তান আমলে এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর এ দেশে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেউই বাংলাদেশের মঙ্গল চায়নি। তারা বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিলেন , তারা বাংলাদেশে জন্ম দিতে চেয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। খুনিদের তারা পুরস্কৃত করে ন্যায়-বিচারকে দেখিয়েছে বৃদ্ধাঙ্গুলি।

বাঙালির জন্য বঙ্গবন্ধুর অন্তরে কত ভালোবাসা ছিল তা পরিমাপ করা অসম্ভব। বঙ্গবন্ধু যখন বাংলার জনগণকে যা যা বলেছেন, বাংলার জনগণ তাই অকপটে মেনে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করেছেন। আজ এ দেশের মানুষের উচিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনেপ্রাণে আঁকড়ে ধরা। বাংলার মানুষ যদি শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ভুলে গিয়ে অন্য কোনো মত ও পথকে আলিঙ্গন করতে চায় তাহলে তারা শুধু প্রতারিতই হবে না, নিজেরাই নিজেদের কবর রচনা করবে।

বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে হলে তার স্বপ্নের বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এজন্য ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অর্জন স্বাধীনতাকে যারা মেনে নিতে পারেনি, তাদের ব্যাপারেও সদাসতর্ক থাকতে হবে।দেশ থেকে প্রতিক্রিয়াশীলদের উচ্ছেদ করতে হবে, যাতে আর কোনো শোক তারা বাংলার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে না পারে। শোকাবহ এই দিনে আমরা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু ও তার নিহত পরিবারবর্গকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ।

Ads