শরীয়তপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪২
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে দুই পক্ষের অন্তত ৪২ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার চিতলিয়া ইউনিয়নের গাজার বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদারের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাস্টার হারুন-অর-রশিদ হাওলাদারের সমর্থকদের এ সংঘর্ষ বাধে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ও ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়ায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত (১১ নভেম্বর)। ওই ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ছিলেন মাস্টার হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার। আর বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সালাম হাওলাদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তখন মাস্টার হারুন-অর-রশিদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়। কিন্তু ৯টি ওয়ার্ড ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদের ৪৮ প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে চিতলিয়া ইউপির নির্বাচন বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকে মাস্টার হারুন-অর-রশিদ ও আব্দুস সালামের বিরোধ আরো বৃদ্ধি পায়।
মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস সালামের সমর্থক মজুমদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা লিটন ব্যাপারীকে কুপিয়ে আহত করেন মাস্টার হারুন-অর-রশিদের সমর্থকরা। বুধবার সকালে আব্দুস সালাম হাওলাদারের চাচাতো ভাই মানিক হাওলাদার গাজার বাজারে গেলে তার ওপর হামলা করেন মাস্টার হারুন-অর-রশিদের সমর্থকরা। তখন দুই পক্ষের সমর্থকের সংঘর্ষে জরিয়ে পরে।
সংঘর্ষের সময় অন্তত ৪০-৫০টি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। দেড় ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৪২ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে হাসেম মাতুব্বর, রাশেদ মাতুব্বর, এমদাদ চৌকিদার ও নুরুল আমীন ব্যাপারীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চিতলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, বুধবার সকালে আমার চাচাতো ভাইকে স্থানীয় গাজার বাজারে যেতে বাঁধা দিয়েছে হারুন-অর-রশিদ এর সমর্থকরা। আমার সমর্থকদের কুপিয়ে আহত করেছেন তারা। হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে আমার লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, চিতলিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবরে সাথে সাথেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ। এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি।



































