দৌলতদিয়ায় এই প্রথম কোনো যৌনকর্মীর দাফন সম্পন্ন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩২ পিএম


দৌলতদিয়ায় এই প্রথম কোনো যৌনকর্মীর দাফন সম্পন্ন

ছবি - সংগৃহীত

পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া উপজেলায় দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লিতে এই প্রথম কোনো নারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হলো।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত বৃহস্পতিবার হামিদা বেগম নামে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীর জানাজা শেষে ইসলামি নিয়মমাফিক কাফন-দাফন সম্পন্ন হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে জোরপূর্বক তিনি যৌন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন। হামিদা বেগমের মেয়ে লক্ষ্মীও একজন যৌনকর্মী। তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি তার কপালে (তার মা) এমন সম্মানজনক বিদায় জুটবে। শেষপর্যন্ত আমার মা মানুষের মতো সম্মান পেল।’
এতদিন  যৌনপল্লিটিতে মারা যাওয়া নারীদের নদীতে ফেলা দেয়া হতো বা রাতের অন্ধকারে মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো।  

ইসলামি বিধি অনুসারে যৌনপেশা অনৈতিক ও অবৈধ হওয়ার কারণে স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এতদিন যৌনকর্মীদের জানাজা পড়ানোর অনুমতি দিত না। ফলে দৌলতদিয়ার কেউ মারা গেলে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হতো বা রাতের অন্ধকারে মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো।

যৌনকর্মীদের একটি দলের প্রধান ঝুমুর বেগম বলেন, ‘সকালে মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য আমরা যদি কোনো মৃতদেহ ঘর থেকে বের করতাম স্থানীয়রা বাঁশ লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের তাড়া করত।’

‘মনে হতো কোনো মানুষ নয়, একটি কুকুর মারা গিয়েছে’, বলছিলেন নিলি বেগম নামে এক বয়স্ক যৌনকর্মী, যার মেয়েও এখন এই পেশায় যুক্ত।

স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমান বলেন, ‘ইমাম প্রথমে জানাজার নামাজ পড়াতে রাজি ছিলেন না। তখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইসলাম ধর্ম একজন যৌনকর্মীর জানাজায় নিষেধাজ্ঞা আছে কী না। তখন সে কোনো উত্তর দিতে পারল না।’

এদিন অন্তত ২০০ জন মানুষ হামিদা বেগমের জানাজায় অংশ নেন বলে আশিকুর রহমান জানান। এ ছাড়া ৪০০ জন নারী-পুরুষ জানাজা পরবর্তী দোয়ার আয়োজন ও তবারুক গ্রহণে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। জানাজায় অংশ নিতে মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে ছিলেন। একজন যৌনকর্মীর জন্য তাদের চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল।’

যুগ যুগ ধরে যৌনকর্মীর জানাজা না হওয়ার এই অচলাবস্থা ভাঙতে এদিন সহায়তা করেছিলেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দৌলতদিয়ায় ইসলামি শরিয়া অনুসারে জানাজা ও দাফন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত,  বিশ্বের বৃহত্তম যৌনপল্লিগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয় দৌলতদিয়াকে। এখানে দিনে অন্তত ৫০০০ হাজার মানুষের যৌনতায় লিপ্ত হতে ভিড় করে। যাদের জন্য প্রয়োজন মেটায় ১২০০ এরও বেশি নারী ও অল্পবয়সী মেয়ে। ঢাকা ৭০ মাইল পশ্চিম ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠে যৌনপল্লিটি দেশের অনুমোদিত ১২টি যৌনপল্লির একটি। ১৯৮৮ সালে স্থানীয়রা আগুন লাগিয়ে দিলে নতুনভাবে গড়ে উঠে এটি।

 

 

 

Ads