বিদ্যুৎ গেলে মোবাইলের আলোয় প্রসব, ৮ মাসে ৭২ স্বাভাবিক প্রসব
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ পিএম
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসবসেবা চালু থাকলেও বিদ্যুৎ ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে রাতের সেবা। বিদ্যুৎ না থাকলে বা লো ভোল্টেজ দেখা দিলে কখনো মোবাইলের আলো ব্যবহার করেই প্রসবসেবা দিতে হয় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের মিডওয়াইফ বৈশাখী চাকমা।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে কেন্দ্রে ৭২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১১, এপ্রিলে ১২, মে মাসে ৬, জুনে ৮, জুলাইয়ে ৯ ও আগস্টে ৭টি প্রসব হয়। গত ৩০ দিনে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে হয়েছে ছয়টি প্রসব।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে এখানে প্রসবসেবা অনিয়মিত ছিল। গ্রিনহিল থেকে দুজন মিডওয়াইফ নিয়োগের পর ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু হয়। বর্তমানে একজন অন্যত্র বদলি হওয়ায় একজন মিডওয়াইফ দিয়েই সার্বক্ষণিক সেবা চলছে। তিনি ছুটিতে গেলে বিকল্প হিসেবে সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়।
মিডওয়াইফ বৈশাখী চাকমা বলেন, রাতে অধিকাংশ প্রসব হওয়ায় পর্যাপ্ত আলো জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার সময় মোবাইলের আলো ছাড়া বিকল্প থাকে না। নিয়মিত ওষুধ সরবরাহও প্রয়োজন। কাছাকাছি ফার্মেসি না থাকায় দরিদ্র রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।
জটিল রোগীর ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সীমাবদ্ধতা। গত এক বছরে দুজন রোগীকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। দুর্গম সড়কে রোগী স্থানান্তরে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মাইসছড়ি বাজার থেকে কেন্দ্রটির দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য প্রান্ত চাকমা বলেন, প্রসবসেবা নিতে আসা দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ত্রিশুল চাকমা বলেন, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মাঠপর্যায়ের সেবায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ে ২৪ ঘণ্টা প্রসবসেবা চালু থাকা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে সেবাটিকে নিরাপদ ও টেকসই করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জরুরি আলো, পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ-সরঞ্জাম এবং দ্রুত রেফারেল পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।
































